Advertisement
E-Paper

আক্রমণকারী সেই পাইলটকে আগেই নিষিদ্ধ করেছিল ওমান: রিপোর্ট, ফ্লাইদুবাইতে তবু কেন নিয়োগ? প্রকাশ্যে পরিচয়ও

হামলাকারী পাইলট ওমানের নাগরিক। ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, বিমানটি ধ্বংস করে তার ভিতরে থাকা ইজ়রায়েলি যাত্রীদের মেরে ফেলাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:০৪

ছবি: পিটিআই।

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানের সেই আক্রমণকারী পাইলটের নাম ও পরিচয় প্রকাশ্যে এল অবশেষে। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম হামাম আল-হাম্মামি। তিনি ওমানের নাগরিক। কিন্তু তাঁর দেশ তাঁকে আগেই নিষিদ্ধ করেছিল। ওমানে তিনি বিমান চালাতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। তার পরেই তিনি দুবাইয়ের বিমান সংস্থায় যোগ দেন।

কেন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল হামামকে? রিপোর্টে দাবি, উগ্র ও কট্টরপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন ওই পাইলট। তা টের পাওয়ার পরেই তাঁকে উড়ান থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ওমান। পরে তাঁকে প্রশাসনিক কাজ করার অনুমতি দেওয়া হলেও বিমান চালানোর ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। তার পরেও কেন ফ্লাইদুবাই ওই পাইলটকে নিয়োগ করল, ইজ়রায়েলের মতো সংবেদনশীল রুটে তাঁকে কেনই বা পাঠানো হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওমান পাইলটকে নিষিদ্ধ করলেও তাঁর মতাদর্শের ধরন বা সেই সংক্রান্ত তথ্য অন্য কোনও দেশকে দিয়েছিল কি না, স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে ওমান কর্তৃপক্ষ এখনও কোনও মন্তব্য করেননি।

বুধবার সকালে দুবাই থেকে ইজ়রায়েলের তেল আভিভ শহরের দিকে যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান। তাতে ক্রু এবং যাত্রী-সহ ১৮০ জন ছিলেন। বিমান চালাচ্ছিলেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। অভিযোগ, ককপিটের মধ্যে ক্যাপ্টেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন হামাম। দু’জনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এই সময় বিমানটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। প্রায় ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে গিয়েছিল ওই বিমান। জখম অবস্থায় কোনও রকমে ককপিটের দরজা খোলেন স্মিত। যাত্রীরা ভিতরে ঢুকে হামলাকারীকে ধরে ফেলেন। বিমানটি জরুরি অবতরণ করে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে। সৌদি কর্তৃপক্ষই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেন। পরে তাঁকে তুলে দেওয়া হয় সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হাতে। তারা গোটা ঘটনার তদন্ত করছে। কিন্তু আগে থেকে এ বিষয়ে তারা কিছুই বলতে রাজি নয়। আমিরশাহি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, তাতে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে। অন্য দিকে, হামলাকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় ইজ়রায়েলও। তারা পৃথক তদন্ত শুরু করেছে।

ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, বিমানটি ধ্বংস করে তার ভিতরে থাকা ইজ়রায়েলি যাত্রীদের মেরে ফেলাই ছিল হামলাকারীর উদ্দেশ্য। তাঁকে ইসলামপন্থী উগ্রবাদী মতাদর্শে দীক্ষিত বলেও উল্লেখ করেছেন নেতানিয়াহু। ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলা বলে দাবি করেছে ইজ়রায়েল। আপাতত ইজ়রায়েলগামী বিমান চলাচল বন্ধ রেখেছে ফ্লাইদুবাই।

এই ঘটনায় নিরাপত্তাজনিত ঘাটতি রয়েছে বলেও কেউ কেউ দাবি করছেন। হামলাকারী পাইলট ককপিটে ধারালো অস্ত্র পেলেন কী ভাবে, নজরদারি এড়িয়ে তা ককপিট পর্যন্ত পৌঁছোল কী ভাবে প্রশ্ন উঠছে। দুবাই থেকে তেল আভিভ সংবেদনশীল রুট। ইজ়রায়েলগামী যে কোনও বিমানেই নজরদারি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার কথা। তার পরেও এমন ঘটনায় শঙ্কা বেড়েছে।

plane hijack Dubai Oman

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy