Advertisement
E-Paper

‘আলোচনায় বসা ছাড়া কোনও পথ খোলা নেই আমেরিকার’! সাত শর্তের কথা ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দিল তেহরান

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত থামানোর জন্য ইরানকে সরাসরি আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসার পরামর্শ দিয়েছে চিন। সেই আবহে ইরানের মুখে এ বার শোনা গেল আলোচনায় বসার কথা। তবে অবশ্যই নিজেদের শর্তে, তা-ও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে তেহরান।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:০৮
Iran sets seven conditions for negotiations with US

(বাঁ দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা শুরুর পর আবার আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় ইরান। কিন্তু আলোচনায় বসার আগে সাত শর্তের কথা জানিয়ে দিল তারা। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাইয়ে তাঁর এক্স পোস্টে ওই সাত শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে কী সেই সাত শর্ত, তা বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

রেজাই লিখেছেন, ‘‘তেহরানের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। ওয়াশিংটন যদি কূটনীতির পথে এগোতে চায় তবে তাদের তেহরানের অধিকার এবং শর্তগুলি মেনে নিতে হবে।’’ তাঁর দাবি, যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার জন্য দায়ী আমেরিকাই। তাই তারা যদি এই জটিল অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চায় তবে ইরানের শর্ত মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের তাদের কাছে আর কোনও পথ খোলা নেই।

দিন তিনেক আগে রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি অনুসন্ধানকারী দলের প্রাপ্ত তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংবাদসংস্থা রয়টার্স। সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ, ফেব্রুয়ারিতে ইরানে চালানো দু’টি সামরিক হামলার নেপথ্যে আমেরিকার হাত রয়েছে, তা বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে ওই অনুসন্ধানকারী দলের কাছে। তারা এই সিদ্ধান্তে এসেছে যে, ওই সব হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল। এই হামলাগুলির মধ্যে অবশ্যই উল্লেখযোগ্য ইরানের এক স্কুলে মার্কিন হানা। সেই হামলায় প্রায় ১৫০ জনের মৃত্যু হয়। যাঁদের মধ্যে অধিকাংশই স্কুলপড়ুয়া।

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত কবে থামবে, তা নিয়ে চিন্তিত প্রায় গোটা বিশ্বই। এই সংঘাত পশ্চিম এশিয়ার জলপথে প্রভাব ফেলেছে। আর ওই জলপথগুলি দিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে জ্বালানি এবং পণ্যবাহী জাহাজ যাতায়াত করে। সংঘাতের কারণে ওই সব জাহাজও আটকে পড়েছে। ফলে বিশ্বের একটা বড় অংশ জ্বালানি সমস্যার মুখে পড়তে চলছে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ, পাকিস্তানের মতো দেশগুলি জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা অবলম্বন করেছে। জ্বালানির অপব্যবহার রোধে এবং ব্যায়সঙ্কোচন করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছে তারা।

হামলা, পাল্টা হামলায় পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার পারদ যেন চড়চড়িয়ে বেড়েই চলেছে। ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সৌদি আরবের দাবি, একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ছোড়া হয়েছে ইয়েমেন থেকে। এমনকি, মক্কার কাছেও হুথির ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এর পর মক্কায় আকাশপথে হামলার সতর্কতা জারি করে দেয় রিয়াধ। তার মধ্যেই চিন সফরে যান ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত থামানোর জন্য ইরানকে সরাসরি আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসার পরামর্শ দিয়েছে চিন। আরাঘচির সঙ্গে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র বৈঠকের পর বেজিঙের তরফে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। সেই বিবৃতিতে অবিলম্বে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা প্রশমন এবং হরমুজ় প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার আর্জি জানায় চিন। তবে কবে আবার আমেরিকা এবং ইরান আলোচনায় বসবে, তা স্পষ্ট নয়। তার মধ্যেই ইরানের তরফে সাত শর্তের কথা প্রকাশ্যে এল।

US-Iran Conflict Peace Talks

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy