Advertisement
E-Paper

হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারও ছাড়াতে পারে! আশঙ্কা নেপালের মন্ত্রীর, মনে করালেন ১১ বছর আগের বিপর্যয়

হড়পা বান বিপর্যয়ের কথা বলতে গিয়ে ১১ বছর আগের আর এক প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগের স্মৃতিচারণ করেছেন ওয়াগেল। তাতেও মৃতের সংখ্যা ৯ হাজারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:১১
হড়পা বানের ক্ষয়ক্ষতিতে চিন্তায় নেপালের বলেন্দ্র শাহের সরকার।

হড়পা বানের ক্ষয়ক্ষতিতে চিন্তায় নেপালের বলেন্দ্র শাহের সরকার। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

নেপালে হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারের গণ্ডিও ছা়ড়িয়ে যেতে পারে। এমনটাই আশঙ্কা করছেন সে দেশের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগেল। তিন দিনের ভারত সফরে এসেছেন তিনি। শনিবার দিল্লিতে রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম ফর ডেভেলপিং কান্ট্রিসের (আরআইএস) একটি সেমিনারে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই সাম্প্রতিক হড়পা বানের ভয়াবহতা বর্ণনা করেছেন। সেই সঙ্গে সাহায্যের জন্য ধন্যবাদও দিয়েছেন ভারত সরকারকে।

হড়পা বান বিপর্যয়ের কথা বলতে গিয়ে ১১ বছর আগের আর এক প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগের স্মৃতিচারণ করেছেন ওয়াগেল।২০১৫ সালে নেপালে যে ভূমিকম্প হয়েছিল, তাতে প্রায় ৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা। নেপালের ভোটেকোশী-ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। কাদামাটির স্তূপ সরিয়ে দেহ খুঁজে বার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। শনিবার পর্যন্ত সরকারি পরিসংখ্যানে ১৪১১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজের সংখ্যা এখনও ৫৮৭৫।

হড়পা বানের বিপর্যয় এবং ক্ষয়ক্ষতি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ, ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে তা ছিল না, মেনে নিয়েছেন ওয়াগেল। তাঁর কথায়, ‘‘বন্যা তো ভৌগোলিক ভাবে নির্দিষ্ট কিছু এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু তা সত্ত্বেও এতে ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের মতো ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’’ মৃত এবং নিখোঁজদের মধ্যে পর্যটক, তীর্থযাত্রীদের পাশাপাশি নেপালের সাধারণ মানুষ, ছোটবড় ব্যবসায়ীরা রয়েছেন।

ভারত সফরে এসে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক বৈঠক করেছেন ওয়াগেল। হড়পা বান বিপর্যয়ে প্রথম থেকেই নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। টন টন ত্রাণসামগ্রী সেখানে পাঠানো হয়েছে। ভারতের এই সহযোগিতার জন্য নরেন্দ্র মোদী সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নেপালের অর্থমন্ত্রী। সেই বার্তাই দিল্লিতে বয়ে এনেছেন ওয়াগেল। কঠিন সময়ে নিজেদের প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ভারত যে নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে, তার জন্য নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নেপালের অর্থমন্ত্রী। বলেন্দ্র নিজে ভারত সফরে আসতে পারেন চলতি বছরের শেষ দিকে।

বিপর্যয়ের কারণে ত্রিশূলী অববাহিকায় প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছে, জানিয়েছেন ওয়াগেল। চিন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বেশ কিছু বিনিয়োগের প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ভারতের বিনিয়োগ রয়েছে দেশের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে। সেখানে বন্যার প্রভাব পড়েনি। নেপাল সরকার আগেই জানিয়েছিল, এই দুর্যোগের ফলে দেশের ১৩টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঘাটতি মেটাতে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির আবেদন করেছিল নেপাল। সরকার তা অনুমোদন করেছে। ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি দিন ১৮ ঘণ্টা করে ৬৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেপালে রফতানি করা হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানিয়েছেন নেপালের মন্ত্রী।

Flash flood Nepal Balendra Shah India Nepal Relations

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy