আমেরিকার নিশানায় ভারতের সাহায্যপ্রাপ্ত ইরানের চাবাহার বন্দর। ওই বন্দরে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানালেন মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ। ওই বন্দরে থাকা একটি নজরদারি টাওয়ার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে জানান তিনি। ধসে পড়া সেই টাওয়ারের ছবিও প্রকাশ্যে এনেছেন হেগসেথ। যদিও ইরানের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়টি নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। হরমুজ় প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজে ইরানের হামলার পরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পশ্চিম এশিয়া। আমেরিকা পাল্টা হামলা চালায় ইরানে। শুধু তা-ই নয়, ইরানের বন্দরে বন্দরে অবরোধের ঘোষণা করেছে আমেরিকা। পাশাপাশি, ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। সেই তালিকায় জুড়েছে চাবাহার বন্দর।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে এই চাবাহার বন্দর বার বার আমেরিকার লক্ষ্যবস্তু ছিল। বিগত কয়েক মাসে এই নিয়ে তৃতীয় বার আক্রমণ হল চাবাহারে।
উল্লেখ্য, ইরানের দক্ষিণ উপকূলে সিস্তান-বালোচিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত চাবাহার বন্দর কৌশলগত ভাবে ভারতের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান-সহ মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, ইউরোপ এবং রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের জন্য চাহাবার বন্দরের গুরুত্ব ভারতের কাছে অনেক। তেহরানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই বন্দর প্রকল্পে কাজ চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। গত কয়েক বছর ধরে ইরানের দক্ষিণ উপকূলের এই বন্দর প্রকল্পের জন্য বার্ষিক অর্থবরাদ্দ করে আসছে ভারত। প্রতি বছর ১০০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ করা হচ্ছিল এই প্রকল্পে। তবে গত বাজেটে সেই চাবাহারের জন্য কোনও বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেনি নরেন্দ্র মোদী সরকার।
আরও পড়ুন:
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাতভর মার্কিন হামলায় আট জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত আরও ২০ জন। আমেরিকার তরফেও এই হামলার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, এই নিয়ে টানা ছ’রাত ইরানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, ইরানের অস্ত্রভান্ডার এবং সামরিক ক্ষমতা ধ্বংস করতেই পর পর হামলা চালানো হচ্ছে। ইরানি সংবাদসংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের দেশের কয়েকটি প্রদেশে মার্কিন হামলায় ধ্বংস হয়েছে বেশ কয়েকটি অবকাঠামো। দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজ়গান প্রদেশে ছ’টি সেতু লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ওই সংবাদসংস্থা।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ২২ জুন থেকে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে, তাতে সে দেশে মৃতের সংখ্যা ৩৮। আহত ৪০০-র বেশি। অন্য দিকে, ইরানও প্রত্যাঘাত শুরু করেছে। ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, ওমানে স্থিত দু’টি রেডার সাইট লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা। সেগুলি ধ্বংস করা হয়েছে। শুধু ওমানে নয়, পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে।