ফ্লাইদুবাই-কাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছে সৌদি আরব। ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের উপর হামলায় অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে গ্রেফতারও করেছে তারা। এর পরে সম্ভবত ওই সহ-পাইলটকে নিয়ে যাওয়া হবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে। তারাও তদন্ত করবে। সেই তদন্তে যোগ দিতে চায় ইজ়রায়েলও।
বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই থেকে ইজ়রায়েলের তেল আভিভে যাওয়ার পথে মাঝআকাশে পাইলটের উপরে হামলার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা এখনও অস্পষ্ট। বিমানটি ‘হাইজ্যাক’ করার চেষ্টা হচ্ছিল কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। ইজ়রায়েল শুরু থেকেই দাবি করছে, এটি সন্ত্রাসবাদী হামলা। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে ইজ়রায়েলের এই দাবি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল যৌথ ভাবে হামলা করেছিল ইরানে। তার পর থেকে দু’দেশের সঙ্গে ইরানের সামরিক সংঘাত চলে আসছে। বার বার ইজ়রায়েল এবং আমেরিকারকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ইরান। ঘটনাচক্রে, বুধবার দুবাই থেকে ইজ়রায়েলের তেল আভিভগামী যে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করানো হয়, সেখানে ইজ়রায়েলি যাত্রীর সংখ্যাই ছিল বেশি। যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন মার্কিন নাগরিকেরাও। সে ক্ষেত্রে মাঝ-আকাশে বিমানের ককপিটে এই রক্তারক্তি কাণ্ডের নেপথ্যে ইরানের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মহলে।
বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ়’-এর এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকেও। তবে এ বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। নেতানিয়াহুর বক্তব্য, কী কারণে ককপিটে ভারতীয় পাইলটের উপরে ওই সহ-পাইলট হামলা করলেন, তা তাঁর কাছেও স্পষ্ট নয়। তবে ওই সহ-পাইলট যে ‘ইজ়রায়েলিদের ঘৃণা করতেন’, এ বিষয়ে নিশ্চিত নেতানিয়াহু। এই হামলার সঙ্গে ইরানের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা-ও এত তাড়াতাড়ি বলে দেওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি। “এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়,” ইরান-যোগের কোনও ইঙ্গিত মিলেছে কি না প্রশ্নের উত্তরে বলেন ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, “হামলাকারী পাইলটের বিষয়ে বর্তমানে তদন্ত করছে সৌদি আরব। এর পরে তাঁকে(পাইলট) সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নিয়ে যাওয়া হবে। কারণ বিমানটি সেখান থেকেই উড়েছিল। আমরা এই তদন্তের উপরে নজর রাখব। তদন্তে যোগও দিতে পারি আমরা।”
বুধবার সকালে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজ়েড১০৭৩ বিমানটি চালাচ্ছিলেন স্মিত। অভিযোগ, মাঝ-আকাশে ককপিটের মধ্যেই তাঁর উপর হামলা হয়। স্মিতকে কোপানো হয় ছুরি দিয়ে। তাঁর সহকারী পাইলট এই আক্রমণ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। বিমানে উপস্থিত যাত্রী এবং অন্য বিমানকর্মীরা হামলাকারীকে বাধা দেন এবং ক্যাপ্টেনকে উদ্ধার করেন। ১৮০ জন যাত্রী-সহ বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। ইজ়রায়েলের দাবি, ধৃত সহ-পাইলট ওমানের নাগরিক। যদিও এ বিষয়ে ওমান কোনও মন্তব্য করেনি।