ইউক্রেন যুদ্ধের ইতি টানতে বুধবার রাতে আমেরিকার মধ্যস্থতায় শান্তিপ্রক্রিয়ায় শামিল হওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভ্লাদিমির পুতিনের ওই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই ইউক্রেনের রাজধানী কিভে নতুন করে হামলা শুরু করল রুশ ফৌজ! ফলে নতুন করে প্রশ্ন উঠল শান্তিপ্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বুধবার দুপুরে সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেন পুতিন। তার পরে ক্রেমলিনের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়, আমেরিকা এবং ইউক্রেনের সঙ্গে আবার ত্রিপাক্ষিক আলোচনা শুরু করতে চান রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। সেই আলোচনা ইতিবাচক হলে যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতায় আসতে পারে রাশিয়া-ইউক্রেন।
কিন্তু ওই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর থেকেই কিভের উপর রুশ ফৌজের ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়! ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি বৃহস্পতিবার জানান, রুশ ফৌজ তিন দফায় অন্তত ২১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। হামলা চালিয়েছে ২১০টি আত্মঘাতী ড্রোন। নিহত হয়েছেন দু’জন। আহত ২২। ইউক্রেনীয় বায়ুসেনা স্বীকার করেছে, প্যাট্রিয়ট ‘ইন্টারসেপ্টর’ ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি থাকায় তারা কোনও রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে পারেনি।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১৬ অগস্ট আলাস্কার ‘জয়েন্ট বেস এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসন’-এ ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন যুদ্ধবিরতির ‘শর্ত’ হিসাবে ‘ভূমি বিনিময়’ (ল্যান্ড সোয়াপিং)-এর উপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, রুশ জনগোষ্ঠীর বসতি ক্রাইমিয়া এবং ডনবাস (ডনেৎস্ক এবং লুহান্সক অঞ্চলকে একত্রে এই নামে চিহ্নিত করা হয়) যে কোনও অবস্থাতেই ইউক্রেনকে ফেরত দেওয়া হবে না, ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে একাধিক বার বার্তা দিয়েছে মস্কো। যদিও তাতে রাজি নন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জ়েলেনস্কি। পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলিও জ়েলেনস্কির অবস্থান সমর্থন করছে। বুধবার ট্রাম্পের দূতের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বৈঠকে শান্তিপ্রক্রিয়ার শর্ত নিয়ে ঐকমত্য হয়নি বলেই বৃহস্পতিবারের হামলা দেখে মনে করছেন কূটনীতি বিশেষজ্ঞদের একাংশ।