ইউক্রেনে বুধবার রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল রাশিয়া। এর মধ্যে কয়েকটি আছড়ে পড়েছে ইউক্রেনের প্রতিবেশী, নেটোর সদস্যরাষ্ট্র পোল্যান্ডেও। আর তার পরেই দানা বেঁধেছে জল্পনা। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশেই এই পরিকল্পিত হামলা কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পশ্চিম ইউরোপের কয়েকটি দেশ। প্রসঙ্গত, এর আগে মে মাসে ইউক্রেনের পড়শি রোমানিয়া এবং পোল্যান্ডের সীমান্তে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল রাশিয়ার সেনা।
পোল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, বুধবার রাতে পশ্চিম ইউক্রেনের লভিভ শহরে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছিল রাশিয়া। সীমান্তবর্তী ওই শহর নিশানা করে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র পোল্যান্ডের ভূখণ্ডেও এসে পড়ে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একাংশে মতে, পোল্যান্ডে নিয়ন্ত্রিত সামরিক অভিযান চালিয়ে বাল্টিক সাগরের নেটো বাহিনীতে চাপে রাখতে চাইছে রাশিয়া। তা ছাড়া পোল্যান্ড সীমান্তবর্তী রুশ শহর কালিনিনগ্রাদ শহরটি পুরোপুরি ঘিরে রয়েছে নেটো ফৌজ। ফলে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ওই এলাকায় ঝটিতি আক্রমণ শানাতে পারে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিম ইউরোপীয় সামরিক জোট। এই পরিস্থিতিতে পোল্যান্ডের উপর চাপ বাড়িতে পুতিন সেই আশঙ্কা দূর করতে চাইছেন বলে মনে করছেন তাঁরা।
আরও পড়ুন:
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বৃহস্পতিবার বিবিসি-কে বলেন, “প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে একটি রুশ কেএইচ-১০১ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তারনাভা কোলোনিয়া এলাকায় আছড়ে পড়েছে। তবে আমরা ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রকৃত পরিচয় এবং নিক্ষেপকারীর বিষয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হতে চাই।” প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পুতিন ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পরেই পোল্যান্ড কূটনৈতিক স্তরে তার প্রতিবাদ করেছিল। রুশ হামলায় ঘরছাড়া কয়েক হাজার ইউক্রেনীয়কেও আশ্রয় দিয়েছিল সামরিক জোট নেটোর ওই সদস্যরাষ্ট্র। তার পর থেকে পেশ কয়েক বার মস্কোর মদতপুষ্ট মিলিশিয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাতের অভিযোগ তুলেছে পোল্যান্ড। গত বছর, পোল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ওয়ারশা-লুবলিন রেললাইনের দু’টি অংশ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল। রেললাইনের বিদ্যুৎসংযোগ ব্যবস্থাতেও আঘাত হানা হয়। পোল্যান্ড অভিযোগ করেছিল, রুশ বাহিনীর মদতপুষ্ট মিলিশিয়া ওই নাশকতার জন্য দায়ী। প্রতিবাদে, দানেস্ক শহরের রুশ কনস্যুলেট বন্ধ করা নির্দেশও দিয়েছিল পোল্যান্ড সরকার।