ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ফের উস্কে দিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার তিনি বলেন, ‘‘ইউক্রেন সঙ্গে যুদ্ধে ইতি টানার জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।’’ সেই সঙ্গে ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকে পুতিনের দাবি, রুশ শিল্প-বাণিজ্যক্ষেত্রগুলির ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন। আর সেই কারণেই প্রত্যাঘাতের পথে হাঁটতে হচ্ছে মস্কোকে।
তবে মস্কো-কিভ শান্তিপ্রক্রিয়ায় তৃতীয় পক্ষের তেমন কোনও ভূমিকা থাকবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘‘শুধু রাশিয়া ও ইউক্রেনই শান্তির বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছোতে পারে, অন্য দেশগুলি কেবল তাদের সমর্থন ও সহায়তা করতে পারে। রাশিয়া ও ইউক্রেনকে সবচেয়ে আগে নিজেদের মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছোতে হবে। তার পরে অন্য সব দেশের সমর্থন ও সহায়তার প্রশ্ন।’’ তবে আমেরিকা, চিন-সহ বিভিন্ন দেশ শান্তিপ্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। পুতিনের কথায়, ‘‘যাঁরা এই সমস্যা সমাধানে অবদান রাখার চেষ্টা করছেন, আমরা তাঁদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ।’’
ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা শুক্রবার বলেছিলেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে শান্তিপ্রচেষ্টা নতুন গতি পাবে।’’ তার কয়েক ঘণ্টা পরেই পুতিনের তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, ‘‘সম্প্রতি আমরা ইউক্রেনের শীর্ষকর্তাদের যে বক্তব্যগুলো শুনেছি, তা বিবেচনার যোগ্য। প্রধানত নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মাধ্যমে কিভের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। তবে তা শান্তিচুক্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে কি না, এই মুহূর্তে আমার পক্ষে বলা কঠিন।’’
আরও পড়ুন:
পশ্চিমি সংবাদমাধ্যমের একাংশের মতে, যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে এখনও অনড় পুতিন। তাঁর ‘নজর’ রয়েছে ২০১৪ সালে ছিনিয়ে নেওয়া ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড ক্রাইমিয়া এবং ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের অন্যতম ভরকেন্দ্র ডেনেৎস্ক- ওব্লাস্ট এবং লুহানস্ক অঞ্চল (যাদের একত্রে ডনবাস বলা হয়)। ডনবাসের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা বর্তমানে রাশিয়ার দখলে। গত এক বছরে ওই এলাকায় নির্ণায়ক অগ্রগতি হয়েছে রুশ বাহিনীর। এ বার ওই এলাকাকে পাকাপাকি ভাবে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করতে চান পুতিন।