ককপিটের ভিতরে রাখা কুঠার দিয়েই ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা চালান ফ্লাইদুবাইয়ের অভিযুক্ত সহকারী পাইলট। ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ বলে উল্লেখ করল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। মূল ঘটনার তিন দিন পর তাদের তরফে এই প্রথম কোনও বিবৃতি এল। দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেল জানিয়েছেন, সহকারী পাইলট বিমানটির দখল নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু অন্য যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে তাঁর চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন।
ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটিতে যাত্রী এবং কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১৮২ জন ছিলেন। দুবাই থেকে তা ইজ়রায়েলের তেল আভিভে যাচ্ছিল। মাঝ-আকাশে ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে বচসা হয়। ওই সময় বিমানটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। এক ধাক্কায় তা ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে যায়। পরে জরুরি ভিত্তিতে বিমান অবতরণ করে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে। সেখানে অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষই অভিযুক্তকে তুলে দেন আমিরশাহির হাতে।
আরও পড়ুন:
অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে কুপিয়েছিলেন সহকারী পাইলট। ককপিটের ভিতরে কী ভাবে অস্ত্র পেলেন? প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছিল, ফল কাটার ছুরি দিয়ে তিনি আক্রমণ করেন। পরে বিমান সংস্থা জানায়, ককপিটে রাখা কুঠার দিয়ে আক্রমণ করা হয়ে থাকতে পারে। জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিমানের ককপিটে কুঠার থাকে। সেই তথ্যই প্রাথমিক তদন্তের পর এ বার নিশ্চিত করলেন আমিরশাহি কর্তৃপক্ষ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, অভিযুক্ত পাইলটের নাম হামাম আল-হাম্মামি। তিনি ওমানের নাগরিক হলেও জন্মেছেন আমিরশাহিতেই। মা সিরিয়ান হওয়ায় সিরিয়াতেও তাঁর যাতায়াত ছিল। ওমান এয়ারে কর্মরত ছিলেন হামাম। সূত্রের দাবি, কট্টরপন্থী মানসিকতার জন্য পাইলট হিসেবে ওমান তাঁকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। পরে তিনি ফ্লাইদুবাইতে যোগ দিয়েছিলেন। সহকর্মীদের দাবি, কট্টরপন্থী ছিলেন অভিযুক্ত। মহিলাদের থেকে দূরে থাকতেন। মহিলাদের সঙ্গে হাতও মেলাতেন না।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ের এই ঘটনার তদন্ত করছে মোট চারটি আঞ্চলিক দেশের তদন্তকারী সংস্থা। আমেরিকা এবং পশ্চিমি দেশগুলিও তার দিকে নজর রেখেছে। অভিযুক্ত পাইলটের মূল উদ্দেশ্য খুঁজে বার করার চেষ্টা চলছে।
এ ক্ষেত্রে ফ্লাইদুবাইয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যে সমস্ত দেশের সঙ্গে ইজ়রায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেই দেশের পাইলটদের উপর আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেশ। বিদেশি বিমান সংস্থাগুলিকেও বলা আছে সেই নিষেধাজ্ঞার কথা। ওমানের সঙ্গে ইজ়রায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তার পরেও কী ভাবে ওমানের পাইলটকে ইজ়রায়েলগামী বিমানে রাখা হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।