ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানের ককপিটে কি নির্দিষ্ট কোনও ‘মিশন’ নিয়েই উঠেছিলেন অভিযুক্ত সহকারী পাইলট? তাঁর বিরুদ্ধে বিমানের ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং বিমানটি ‘ক্র্যাশ’ করানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। আপাতত তিনি রয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হেফাজতে। তারাই তদন্ত করছে। এখনও পর্যন্ত আমিরশাহি কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তের নাম, পরিচয় বা ছবি সরকারি ভাবে প্রকাশ্যে আনেনি। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম হামাম আল-হাম্মামি। তিনি ওমানের নাগরিক। ওই নামের একটি সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ঘেঁটে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ঘটনার পর দু’টি পোস্ট হয়েছে বলে খবর।
হামাম আল-হাম্মামি নামের যে লিঙ্কডইন অ্যাকাউন্টটি পাওয়া গিয়েছে, তা অভিযুক্ত ওই পাইলটেরই অ্যাকাউন্ট কি না, স্পষ্ট নয়। তবে সেখানে দেখা গিয়েছে, তিনি ইংল্যান্ডের বাকিংহ্যামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটি থেকে বিমান পরিবহণ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তিন বছরের ডিগ্রি কোর্স সম্পন্ন করেন ২০২৩ সালে। এই তথ্য সিএনএন-কে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে, ওমান এয়ারে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন হামাম। তাঁর উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর ওমানে তাঁকে বিমান চালানোর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। তবে সংস্থার অন্যান্য দায়িত্বে তিনি বহাল ছিলেন। পরে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। লিঙ্কডইন প্রোফাইলে মরক্কোর বিমান সংস্থা রয়্যাল এয়ার মারোকে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতার কথাও রয়েছে। ওই লিঙ্কডইন অ্যাকাউন্টটি পরে সরিয়ে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
ফ্লাইদুবাইয়ে অভিযুক্তের কিছু সহকর্মী জানিয়েছেন, আট মাস আগে তিনি সংস্থায় যোগ দিয়েছিলেন। কৌতূহলের বিষয় হল, তাঁর যে সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টটি পাওয়া গিয়েছে, তাতে মাত্র দু’টি পোস্ট রয়েছে। দু’টিই করা হয়েছে গত ৩০ সেপ্টেম্বর, ককপিট-কাণ্ডের পর। প্রথম পোস্টটিতে একাধিক দৃশ্য যোগ করা হয়েছিল। একটিতে দেখানো হয় বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের ককপিট। অন্য একটি দৃশ্যে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ছবি ছিল। দ্বিতীয় পোস্টের ভিডিয়োর একেবারে শেষে দেখা যায় জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদার নেতা আয়মান আল-জ়াওয়াহিরির ছবি। ৯/১১ হামলার অন্যতম চক্রী ছিলেন তিনি। ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর জঙ্গি সংগঠনকে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২২ সালে আফগানিস্তানে আমেরিকার একটি ড্রোন হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ককপিটে গোলমালের পর কী ভাবে অভিযুক্তের সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট দু’টি করা হল? তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, পোস্টগুলি আগে থেকে ‘শিডিউল’ করে রাখা হয়েছিল কি না। যদি অভিযুক্ত সত্যিই কোনও ‘আত্মঘাতী মিশনে’ যান, সে ক্ষেত্রে আগে থেকে পোস্ট ‘শিডিউল’ করে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সেটি আদৌ তাঁর প্রোফাইল কি না, এই পোস্টগুলি তাঁর করা কি না, এখনও নিশ্চিত নয়। ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, অভিযুক্ত ইসলামপন্থী উগ্রবাদী মতাদর্শে দীক্ষিত। ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে থাকা ইজ়রায়েলি নাগরিকদের হত্যার উদ্দেশে বিমান ‘ক্র্যাশ’ করাতে চেয়েছিলেন। ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলা বলেও উল্লেখ করেছে ইজ়রায়েল। কিন্তু তদন্তকারী দেশ আমিরশাহি এখনও কোনও মন্তব্য করেনি। তারা জানিয়েছে, আগে থেকে মন্তব্য করলে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে।