ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ-সহ ৬০টি দেশের উপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফেডেরাল রেজিস্টার নোটিসের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার এই শুল্কের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার থেকেই তা কার্যকর হবে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, আমেরিকায় পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে কোনও দেশকে ১০ শতাংশ, কোনও দেশকে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। ভারত রয়েছে প্রথম তালিকায়। ইজ়রায়েলের উপর আরও বেশি শুল্ক চাপানো হয়েছে। চিনের সমান শুল্ক ট্রাম্প নেবেন ‘বন্ধু’ বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেশের কাছ থেকে।
কী কারণে নতুন করে চাপানো হচ্ছে করের বোঝা? আমেরিকা একে বলছে ‘বলপূর্বক শ্রম’ শুল্ক। অর্থাৎ, বলপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের উপর শুল্ক নেবেন ট্রাম্প। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, ‘‘জোর করে আদায় করা শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমেরিকায় আমদানি করা হয় না। প্রায় এক শতাব্দী ধরে তার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং কঠোর ভাবে তা কার্যকর করা হচ্ছে।’’ যে সমস্ত দেশের সঙ্গে আমেরিকা বাণিজ্য করে, তাদের বিরুদ্ধে বলপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত নিয়ম বাস্তবায়নে শিথিলতার অভিযোগ তুলেছে ওয়াশিংটন। গ্রিয়ারের দাবি, ‘‘আমাদের বাণিজ্যিক অংশীদারদের এই পদক্ষেপ করার সুযোগ ছিল। কিন্তু সময় পেরিয়ে গিয়েছে। আমাদের আজকের এই পদক্ষেপ এমন একটি পরিস্থিতিকে সংশোধন করবে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘন করে এবং বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটায়। বিশ্বের সর্বত্র শ্রমিকদের কল্যাণে আমরা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’
আরও পড়ুন:
১০ শতাংশ শুল্ক যে সমস্ত দেশের উপর চাপানো হচ্ছে, তার মধ্যে অন্যতম ভারত। এ ছাড়াও সেই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আর্জেন্টিনা, ব্রিটেন, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডন, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইৎজ়ারল্যান্ড এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলির উপর আগে থেকেই ‘সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত রাষ্ট্র’ শুল্ক কার্যকর রয়েছে। তার সঙ্গে নতুন কর যুক্ত হয়ে শুল্কের হার দাঁড়াবে ১০ বা ১২.৫ শতাংশে। এ ছাড়া আরও ৩৮টি দেশ রয়েছে ১২.৫ শতাংশ শুল্কের তালিকায়। তার মধ্যে অন্যতম চিন, ইজ়রায়েল, অস্ট্রেলিয়া।
উল্লেখ্য, গত বছর ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের উপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ হারে পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। গত ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট সেই শুল্ক বাতিল করে দেয়। তখন ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ হারে সাময়িক শুল্ক আরোপ করার কথা বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শুক্রবার তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাই সে দিন থেকেই নতুন ‘বলপূর্বক শ্রম’ শুল্ক চালু করা হচ্ছে। আমেরিকার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা অনুযায়ী শুল্ক চাপাচ্ছেন ট্রাম্প। তবে কিছু কিছু পণ্যকে এ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তেল, গ্যাস, সার এবং কিছু খাদ্যপণ্য ব্যতিক্রমের তালিকায় রয়েছে। তার উপর নতুন শুল্কহার প্রযোজ্য হবে না।