প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সম্প্রতি বৈঠক করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার মাঝে এই বৈঠক নিয়ে এ বার মুখ খুলল আমেরিকা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দাবি, দিল্লি এবং তেহরানের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলেই মনে করছে তারা। তবে একই সঙ্গে এ-ও জানিয়েছে, কোনও দেশ যেন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর জন্য ইরানকে সাহায্য না করে। এমনটা হলে, সেই দেশের উপরেও আমেরিকা আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
গত সোমবার কিরগিজ়স্তানের রাজধানী বিশকেকে ‘সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজ়েশন’ (এসসিও)-এর সম্মলেন যোগ দেন মোদী। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের পাশাপাশি ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজ়েশকিয়ানও যোগ দেন ওই সম্মেলনে। সোমবার সম্মেলনের ফাঁকে পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন মোদী। বৈঠক নিয়ে বিদেশ মন্ত্রক যে বিবৃতি দিয়েছে, তাতে কোথাও বাণিজ্যের বিষয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ নেই। পেজ়েশকিয়ানও এমন কিছু দাবি করেননি। তবে ভারত-ইরান দীর্ঘ কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এ অবস্থায় দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে কোনও আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল বৃদ্ধি পেয়েছে আমেরিকায়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ় রেডিয়ো’য় এক সাক্ষাৎকারে বুধবার এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওকে। জানতে চাওয়া হয়, মোদী এবং পেজ়েশকিয়ানের মধ্যে কোনও বাণিজ্যচুক্তি হচ্ছে কি না। উত্তরে রুবিও বলেন, “আমার মনে হয় না ভারত এবং ইরানের মধ্যে কোনও বাণিজ্যচুক্তি হচ্ছে। প্রতিটি দেশই নিজ নিজ বিদেশনীতি তৈরি করে। বিশ্বে এমন অনেক দেশ রয়েছে, যারা ইরানের সরকারের সঙ্গে বৈঠক করে। আমরাও (আমেরিকাও) ইরান সরকারের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছি।”
ট্রাম্প প্রশাসনের বিদেশসচিব বোঝাতে চেয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কোনও দেশের বৈঠক নিয়ে তাদের কোনও আপত্তি নেই। তবে কোনও দেশেরই এমন কিছু করা যাবে না যা ইরানকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করে। রুবিও বলেন, “কোনও দেশেরই এমন কোনও ব্যবস্থা তৈরিতে ইরানকে সাহায্য করা উচিত নয়, যা থেকে তারা (ইরান) আয় করতে পারে।” বাণিজ্য থেকে পাওয়া ওই অর্থ ইরান ‘পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টায়’ এবং ‘সন্ত্রাসবাদের মদত দেওয়ার’ কাজে ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা রুবিও-র। বস্তুত, এই আশঙ্কা আমেরিকার বহুদিনের। এই উদ্বেগ থেকেই তারা ইরানে হামলা চালিয়েছে এবং তাদের উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে। মার্কিন বিদেশসচিব হুঁশিয়ারি দেন, “যদি কোনও দেশ এমন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আমরা তাদের উপরও নিষেধাজ্ঞা চাপাব।”
আরও পড়ুন:
ভারত এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘ কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে দিল্লি এবং তেহরান যৌথ ভাবে ইরানের চাবাহার বন্দর গড়ার কাজ শুরু করেছিল। গত কয়েক বছর ধরে ইরানের দক্ষিণ উপকূলের এই বন্দর প্রকল্পের জন্য বার্ষিক অর্থবরাদ্দ করে আসছিল ভারত। তবে এ বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে চাবাহারের জন্য কোনও অর্থবরাদ্দ ঘোষণা করা হয়নি। সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য চার ভারতীয় সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্পের প্রশাসন।
ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন করে বড়সড় অর্থনৈতিক চাপের অভিযান শুরু করেছে আমেরিকা। আমেরিকা চাইছে, ইরানের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপর আঘাত হানতে। অর্থনৈতিক ভাবে তেহরানকে ‘পঙ্গু’ করার লক্ষ্যে তাদের এই অভিযান। ট্রাম্প প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা, ইরানকে সাহায্যকারী দেশগুলির উপর কঠোর আর্থিক জরিমানা চাপানো বা নিষেধাজ্ঞা জারি করা। অর্থাৎ, বিশ্ব জুড়ে যে দেশগুলি বা তাদের সংস্থা ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করবে আমেরিকা।