ব্রিক্স সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার সকালে দিল্লিতে নেমেছে দু’টি একই রকম দেখতে বিমান। তার মধ্যেই একটিতে চেপে এসেছেন পুতিন। দু’টির মধ্যে কোন বিমানে পুতিন ছিলেন, তা জানা যায়নি। পুতিনের নিরাপত্তার জন্যই এই বিশেষ ব্যবস্থা। সেই ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ-তে আরামের ব্যবস্থা যেমন রয়েছে, তেমন রয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা। পুতিনের এই বিশেষ বিমানটি সংবাদমাধ্যমে ‘উড়ন্ত ক্রেমলিন’ বা ‘ডুমসডে প্লেন’ নামে পরিচিত।
পুতিন যখনই দেশে বা বিদেশে কোথাও যান, তখনই প্রায় এক সঙ্গে ওড়ে একই রকম দেখতে ওই আইএল-৯৬-৩০০পিইউ বিমান। তার মধ্যে কোনটিতে সফর করছেন রুশ প্রেসিডেন্ট, তা প্রকাশ করা হয় না।
আইএল-৯৬ বিমানটির নকশা ও নির্মাণের কাজ ১৯৮০-র দশকে শুরু হয়েছিল। পরে প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য আইএল-৯৬-৩০০পিইউ সংস্করণটি বিশেষ ভাবে পরিবর্তিত করা হয়। তবে সম্পূর্ণ গোপনে। বিপদ মোকাবিলা করার জন্য সব রকম ব্যবস্থা রয়েছে বিমানে। রয়েছে চারটি ইঞ্জিন— অ্যাভিয়াডভিগাটেল পিএস-৯০এ। একটানা ১১ হাজার কিলোমিটার উড়তে পারে এই বিমান। দীর্ঘ সফরেও তেল ভরার খুব একটা প্রয়োজন পড়ে না।
আরও পড়ুন:
পুতিনের জন্য তৈরি ওই বিমানের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৫.৩৫ মিটার। ডানা মিলিয়ে প্রস্থ ৬০.১২ মিটার। তার পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সামলায় রাশিয়ার বিশেষ ফ্লাইট স্কোয়াড্রন। জরুরিকালীন পরিস্থিতিতে এই বিমানকেই কমান্ড সেন্টার হিসাবে ব্যবহার করা যাবে। সেখানে বসেই সেনাবাহিনী, গোয়েন্দাবিভাগ, সরকারি দফতরগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। উপগ্রহ-নির্ভর সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে রাশিয়ার সামরিক, গোয়েন্দা ও সরকারি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যায়। বিমানটিতে রাডার জ্যামিং প্রযুক্তি এবং উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। উপগ্রহের মাধ্যমে তথ্য পেতে পারে এই বিমান।
‘উড়ন্ত ক্রেমলিন’-এ বিলাসব্যবস্থারও কোনও ত্রুটি নেই। প্রেসিডেন্টের জন্য রয়েছে বিশেষ সুইট, শৌচালয়, খাওয়ার ঘর। বৈঠক করার জন্য রয়েছে ঘর। কাঠের আসবাব, চামড়ায় মোড়া নরম গদিও রয়েছে।