সমুদ্র সাঁতরে, সীমান্ত পেরিয়ে কোনওক্রমে ঢুকে পড়েছিলেন সেউতায়। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই মরক্কো থেকে এসেছিলেন। কিন্তু ২৪ ঘণ্টাও কাটালেন না স্পেন অধীনস্থ শহর সেউতায়। আবার ফিরতি পথ ধরলেন অনেকেই। কারণ, খাবারের অভাব। থাকার জায়গা নেই!
আফ্রিকায় স্পেনশাসিত শহর সেউতা। সমুদ্রঘেঁষা এই সীমান্তবর্তী শহরটিতে মেরেকেটে ৮৫ হাজার লোকের বাস। তবে এই শহরের একটা বড় অংশই অভিবাসী। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই মরক্কো থেকে আসেন রুটিরুজির টানে। বৃহস্পতিবার থেকে এই সেউতায় কাতারে কাতারে মানুষ ঢুকতে শুরু করেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেউতার জনসংখ্যা প্রায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। কিন্তু এই ছোট্ট শহরে এত অতিরিক্ত লোকের থাকার জায়গা কোথায়? খাবার নেই, খিদের জ্বালায় শিশুদের কান্নায় কান পাতা দায়! তার উপর সেউতার নিরাপত্তাবাহিনীর ‘দমনপীড়ন’ দুর্বিষহ করে তুলেছিল হাজার হাজার অভিবাসীর জীবন। আর সেই সবের কারণে সেউতা ছেড়ে আবার স্বদেশে ফিরছেন তাঁরা।
অভিবাসীদের অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর হয়নি। মাইলের পর মাইল সমুদ্রপথ সাঁতরে পেরিয়ে সেউতায় পৌঁছেছিলেন তাঁরা। সমুদ্র ছেড়ে স্থলপথে উঠতেই তাঁদের মুখোমুখি হতে হয় নিরাপত্তাবাহিনীর। অভিবাসীদের দাবি. জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে চেয়েছিল তারা। অনেকে সেই সব বাধা কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বটে, কিন্তু খাদ্য এবং বাসস্থানের প্রতিকূলতার কারণে সেউতায় আসার উন্মাদনায় ভাটা পড়ে।
সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মরক্কোর ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত স্পেন অধীনস্থ সেউতায় যাতে অবৈধ ভাবে কেউ ঢুকতে না-পারেন, তার জন্য সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে প্রশাসন। সীমান্তের কিছু অংশ জুড়ে সাঁজোয়া গাড়ি মোতায়েন করা হয়েছে। সেই বাধা টপকে নতুন করে কেউ আর সেউতায় ঢুকতে পারেননি। আর যাঁরা ইতিমধ্যেই ঢুকে পড়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই আবার মরক্কো ফিরছেন। এত কষ্ট করে সেউতায় এসেও কেন ফিরতি পথ ধরছেন তাঁরা? তাঁদের অনেকেই জানাচ্ছেন, সেউতায় থাকবেন কোথায়, খাবেন কী? ২৪ ঘণ্টা এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরেও কোনও কিছু জোগাড় করতে পারেননি। আর সেই কারণেই আবার নিজের দেশেই ফিরে যাচ্ছেন। তাঞ্জিয়ারের এক তরুণের কথায়, ‘‘সত্যি বলতে আমি কেন এসেছিলাম, তা নিজেও জানি না। অন্যের সঙ্গে উৎসাহে চলে এসেছিলাম। সঙ্গে কিছু টাকা ছিল। কিন্তু শুক্রবার দুপুরের পর থেকে আর খাবার জোটেনি। তাই ফিরে যাচ্ছি।’’ তাঁর মতে, এ ভাবে সেউতায় ঢুকে পড়াটা ঠিক হয়নি! স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে সেউতায় ঢুকেছেন প্রায় ৬০ হাজার জন। তাঁদের মধ্যে ৪৫ হাজার অভিবাসী ইতিমধ্যেই মরক্কো ফিরে গিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
কেন হাজার হাজার মানুষ সেউতায় চলে এসেছিলেন? সেউতার আঞ্চলিক প্রশাসনের মতে, জুলাই মাসের শুরুতে স্পেনের সর্বোচ্চ আদালতের একটি রায়ের কারণেই সেউতায় এত অভিবাসীদের আগমন হয়েছে। সেই রায়ে আদালত জানিয়েছিল, সমুদ্রপথে এসে আটক হওয়া অভিবাসীদের সঙ্গে সঙ্গে ফেরত পাঠানো যাবে না। তবে স্থলপথে যাঁরা অবৈধ ভাবে ঢুকছেন, তাঁদের জন্য এই আইন প্রযোজ্য নয়। সেউতার আঞ্চলিক প্রশাসনের মতে, সেই রায়ের কারণে হাজার হাজার মানুষ সমুদ্রপথে তাঁদের শহরে ঢুকে পড়েছেন। অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন, দিন কয়েক থাকা যাবে সেউতায়। তবে খাদ্য-বাসস্থানের অভাব, সেনাবাহিনীর ‘দমনপীড়ন’-এর কারণে তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই আবার একই পথে নিজের দেশে ফিরে গিয়েছেন।