‘পাহাড়ের রাজকন্যে’-র অন্দরেই লুকিয়ে আছে ‘শয়তানের রান্নাঘর’!পুজোর মনখারাপ ভুলতে যাবেন নাকি সেখানে? রইল খরচাপাতির হিসেব
ঘুরতে যাওয়ার থেকে মন ভাল করার বড় ওষুধ আর কিছু হয় না। উঁচু উঁচু পাহাড়, মেঘেদের খেলা, ঘন জঙ্গল, আঁকাবাঁকা রাস্তা, শান্ত পরিবেশ সবমিলিয়ে এক অদ্ভুত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে চলে যেতে পারেন কোডাইকানাল।
পুজোর পর বাঙালির মন খারাপের শেষ নেই। এত হইহুল্লোড়ের পর, হঠাৎ সব একেবারে থেমে গেলে মনেরই বা দোষ কী? সে তো কষ্ট পাবেই। এই কষ্ট দূর করতে ঘুরতে যেতে পারেন। কারণ ঘুরতে যাওয়ার থেকে মন ভাল করার বড় ওষুধ আর কিছু হয় না।
কিন্তু কোথায় যাবেন? দীঘা, পুরী, দার্জিলিং বা উত্তর বঙ্গের অফবিট তো অনেক হল। এবার একটু অন্য জায়গায় ঘুরতে জেতে চান? চিন্তা নেই ভাল জায়গার সন্ধান আপনাকে দেবে আনন্দবাজার ডট কম।
উঁচু উঁচু পাহাড়, মেঘেদের খেলা, ঘন জঙ্গল, আঁকাবাঁকা রাস্তা, শান্ত পরিবেশ সবমিলিয়ে এক অদ্ভুত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে চলে যেতে পারেন কোডাইকানাল। দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর রাজ্যের পশ্চিমঘাট পর্বতমালার পালানি পাহাড়ে রয়েছে কোডাইকানাল শহর।
অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য এই জায়গাকে 'প্রিন্সেস অফ হিল স্টেশনস' বলা হয়। অক্টোবর থেকে মার্চ এখানকার আবহাওয়া থাকে ঠাণ্ডা ও মনোরম। তাই কোডাইকানাল ঘুরতে যাওয়ার এটা মোক্ষম সময়।
আরও পড়ুন:
যারা ঘুরতে গিয়ে ঘরে বসে থাকে নারাজ তাঁদের জন্য এই জায়গা একটি খুবই ভাল বিকল্প। কারণ এখানে ঘোরার জায়গার অভাব নেই।
অন্যতম একটি জায়গা হল, কোডাই হ্রদ। এই হ্রদটি কৃত্রিম ভাবে তৈরি এবং তারা আকৃতির। এর চারপাশে রয়েছে সুন্দর সবুজে ঘেরা পাহাড়। এই মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে চুপ করে কিছুক্ষণ বসে থাকলেই মনে শান্তি অনুভব করবেন।
এই হ্রদের ঠিক পূর্ব দিকে অবস্থিত ব্রায়ান্ট পার্ক। এটি একটি বোটানিক্যাল বাগান। যেখানে গেলে আপনি দেখতে পাবেন প্রায় ৩২৫ প্রজাতির গাছ সঙ্গে রয়েছে নানা রকম ফুলের গাছও।
আরও পড়ুন:
যেতে পারেন কোকার্স ওয়াক। নাম শুনেই বুঝতে পারছেন এটি একটি হাঁটটার জায়গা। তবে শুধু হাঁটা নয়, সঙ্গে দেখতে পাবেন আসাধারন দৃশ্য। দুরে দাড়িয়ে থাকা উঁচু উঁচু পাহাড়, মেঘেদের ভেসে বেরানো আর বিশাল উপত্যকা।
ঘুরে আসতে পারেন এখানকার পাইন ফরেস্ট থেকে। লম্বা লম্বা পাইন গাছের সারি। জঙ্গলে আলো ছায়ার খেলা। এই সব উপভোগ করতে করতে জঙ্গলের রাস্তায় হাঁটতে বেশ রোমাঞ্চ অনুভব করবেন।
এখানকার একটি আকর্ষণীয় বিষয় হল, পিলার রকস। বিশাল লম্বা পাথরের স্তম্ভের মত দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়। খুবই আশ্চর্যের বিষয়, এত বড় পাহাড় একদম খাঁড়া ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। তবে এটি দেখতে হলে হাতে একটু সময় নিয়ে যেতে হবে। কারণ অনেক সময় এই পাহাড় মেঘে ধেকে থাকে।
রয়েছে ডলফিন্স নোজ। এটি হল ডলফিনের নাকের মত চ্যাপ্টা আকৃতির পাথর যা এক গভীর খাদের ওপর ঝুলে রয়েছে।
সিলভার ক্যাসকেড জলপ্রপাত আপনাকে নিরাশ করবে না। স্থানিয়দের কাছে এটি ভেলি অরুভি নামেও পরিচিত। উঁচু ।উঁচু পাহাড়েরে গা বেয়ে নেমে আসা সাদা ফেনার মত জল আর চারপাশের সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য আপানার মন কাড়তে বাধ্য।
রহস্য রোমাঞ্চ প্রেমীদের জন্য রয়েছে গুনা গুহা (কেভ)। আগে এই জায়গার নাম ছিল শয়তানের রান্নাঘর (দ্য ডেভিল'স কিচেন)। কমল হাসানের চলচিত্র গুনা তে এই জায়গা দেখানো হয় আর তারপর থেকেই এই জায়গার নামকরন করা হয় গুনা। পরবর্তীতে আরও অনেক চলচিত্রের শুটিং এখানে হয়েছে।
এই জায়গা দেখতেও খুবই রহস্যময়। চারদিকে রয়েছে ঘন গাছপালা, মাটির ওপর চারিদিকে গাছের শিকর ছড়ানো। এছাড়াও এই গুহাকে ঘিরে রয়েছে অনেক দুর্ঘটনার খবরও। তাই এখানে ঘুরতে গেলে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করবেন, কোনও ভাবেই নিষিদ্ধ জায়গায় প্রবেশ করবেন না। স্থানীয়দের কথা শুনে চলাই শ্রেয়।
এছাড়াও রয়েছে গ্রিন ভ্যালি ভিউ যা আগে পরিচিত ছিল 'সুইসাইড পয়েন্ট’ নামে। এই জায়গা থেকে আপনি দেখতে পাবেন সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য।
আরও পড়ুন:
যেতে পারেন কুরুঞ্জি আন্ডাভার মন্দির। এটি হল ভাগবান কার্তিকের মন্দির। এখানে ১২ বছর পর পর কুরুঞ্জি ফুল ফোটে। তখন সেই ফুলের নীল রঙে ঢেকে যায় গোটা উপত্যকা। সেই কুরুঞ্জি ফুলের নাম অনুসারে এই মন্দিরের নাম রাখা হয়েছে।
কোথায় কোথায় ঘুরতে পারেন সেসব তো হল, জেনে নিন এই সুন্দর শহর কোডাই কানালে যাবেন কী ভাবে? বিমান, ট্রেন, বাস এই সবের সুবিধা রয়েছে এখানে আসার জন্য।
বিমানে গেলে সবচেয়ে কাছে হবে মাদুরাই বিমানবন্দর। সেখানে থেকে গাড়ি করে কোডাইকানাল ১২০ কিমি পথ।
ট্রেনে গেলে কোডাই রোড রেলস্টেশন সবচেয়ে কাছে। এখানে থেকে গাড়ি বা বাসে পৌঁছে যেতে পারেন কোডাইকানাল।
দিন্দিগুল, পালানি বা মাদুরাই থেকে বাস বা গাড়িতেও পৌঁছে যেতে পারেন।
কলকাতা থেকে কোডাইকানাল ঘুরতে এলে জনপ্রতি ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। তবে আপনি কী ভাবে ঘুরছেন তাঁর ভিত্তিতে এই টাকার পরিমান বাড়তে পারে। নিজস্ব গাড়ি নিলে খরচা বাড়বে তা বলাই বাহুল্য। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)