ট্রেনের টিকিট বাতিল করে প্রাপ্য ফেরত মূল্যের থেকে ১ টাকা কম পেয়েছিলেন এক যাত্রী। আর, সেই নিয়েই ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (আইআরসিটিসি)-এর বিরুদ্ধে উপভোক্তা কমিশনে নালিশ ঠুকে দেন কেরলমের ওই বাসিন্দা। সেই মামলায় জয়ী হয়েছেন তিনি। কাসারগোদ জেলার উপভোক্তা কমিশন রেলের সংস্থাটিকে ওই ১ টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ হিসেবে আরও ১০০ টাকা এবং মামলা চালানোর খরচ বাবদ ৩,০০০ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে খবর।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, আইআরসিটিসি-কে টিকিট বাতিলের তারিখ, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ১৭ অগস্ট থেকে টাকা ফেরত দেওয়া পর্যন্ত সময়ের জন্য, বার্ষিক ৯ শতাংশ হারে সুদ-সহ ১ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি, এই নির্দেশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগকারীকে ১০০ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং মামলা চালানোর খরচ বাবদ ৩,০০০ টাকা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে কমিশন।
আরও পড়ুন:
২০২৪ সালে ২০ অগস্টের যাত্রার জন্য ৫৫৩ টাকা দিয়ে একটি এসি থ্রি-টায়ারের টিকিট বুক করেছিলেন ওই ব্যক্তি। পরে, নির্ধারিত যাত্রার ৪৮ ঘণ্টারও বেশি আগে, অর্থাৎ ১৭ অগস্ট তিনি টিকিটটি বাতিল করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, টিকিট বাতিলের জন্য আইআরসিটিসি ১৮০ টাকা মাশুল এবং তার উপর ৫ শতাংশ জিএসটি বাবদ আরও ৯ টাকা কেটে নেয়। কমিশনের নথি অনুযায়ী, সব হিসেবের পর যাত্রীর ফেরত পাওয়ার কথা ছিল ৩৪১ টাকা। কিন্তু, আইআরসিটিসি তাঁকে ৩৪০ টাকা ফেরত দেয়। ফলে, ১ টাকা কম ফেরত পান ওই যাত্রী।
এই ১ টাকা কম পাওয়ার জন্য তিনি বিভ্রান্তি, মানসিক যন্ত্রণা এবং বিশ্বাসভঙ্গের শিকার হয়েছেন বলে কমিশনে দাবি করেন ওই অভিযোগকারী। এর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ লক্ষ টাকা, বিশ্বাসভঙ্গের জন্য আরও ১ লক্ষ টাকা , মামলা পরিচালনার খরচ বাবদ ৫,০০০ টাকা এবং অবশিষ্ট ১ টাকাও দাবি করেন তিনি।
মামলায় আইআরসিটিসি নিজেদের বক্তব্য পেশ করেছিল। তবে, নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় কমিশন তাদের জবাব গ্রহণ করেনি। কমিশন আরও জানিয়েছে, যাত্রীর প্রাপ্য ফেরত মূল্য থেকে কেন ১ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছিল, তার কোনও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা দিতে পারেনি আইআরসিটিসি। কমিশনের মতে, প্রাপ্য সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়া ‘পরিষেবার ঘাটতি’ এবং ‘অন্যায্য বাণিজ্যিক প্রথা’র সমতুল্য। এই কারণেই অভিযোগকারীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।