৬ নভেম্বর ধনতেরস। সোনা বা রুপোর মতো ধাতু কেনার হিড়িক বাড়বে ভারতীয় ক্রেতাদের মধ্যে, এমনটাই আশা বাণিজ্য মহলের। কারণ, এক লাফে অনেকটাই দাম পড়েছে দু’টি ধাতুর। ফলে, বেশ খানিকটা স্বস্তি পেয়েছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে রুপোর দাম কমেছে হু হু করে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায় রজত ধাতুর দাম। ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার ৬৩২ টাকা ছুঁয়েছিল প্রতি কেজি রুপো। তার পর থেকে উল্কার বেগে পড়তে শুরু করেছে রুপোর দাম। অক্টোবর মাসের মধ্যেই রুপোর দাম অর্ধেকেরও বেশি কমে গিয়েছে। দাম পড়তেই ক্রেতাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, দাম কমার সুযোগে এক লপ্তে রুপো কিনে নেওয়া উচিত, না কি আরও দাম কমা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।
আরও পড়ুন:
রুপোর দাম কমার পিছনে ভূমিকা রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারের। অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে বিশ্ব জুড়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা আরও বেড়েছে। এর জেরে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, মার্কিন ফেডারেল রিজ়ার্ভ সুদের হার দীর্ঘ দিন ধরে উপরের দিকেই থাকবে। এমনকি, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার আরও বাড়ানোর পথেও হাঁটতে পারে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। ফলে, সুদের বিনিময়ে উচ্চ আয়ের বিনিয়োগের বিকল্পগুলি আকর্ষণীয় হয়ে উঠলে সোনা ও রুপোর চাহিদা কমতে পারে। কারণ, এই দুই ধাতু থেকে সরাসরি কোনও সুদ বা নিয়মিত আয় পাওয়া যায় না। পাশাপাশি, মার্কিন ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং বন্ড থেকে বেশি মুনাফা পাওয়ার সুযোগও রুপোর দাম পড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞেরা।
আরও পড়ুন:
বিশেষজ্ঞদের মতে, রুপোর দাম ইতিমধ্যে অনেকটা কমে গেলেও, আগামী দিনে তা আরও কমতে পারে। তাই, এক বারে অনেক টাকা বিনিয়োগ না করে, অল্প অল্প করে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করাই ভাল কৌশল হতে পারে। বিনিয়োগকারীদের মার্কিন সুদের হার, ডলারের দাম, বিশ্ববাজারে রুপোর চাহিদা এবং দামের ওঠানামার দিকে নজর রাখা উচিত বলে মত তাঁদের। যাঁরা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করতে চান, তাঁদের ক্ষমতা বুঝে বিনিয়োগ করতে পারেন। কতটা ঝুঁকি নিতে পারবেন, তা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন তাঁরা।
বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, রজত ধাতুতে বিনিয়োগের আগে কেন এবং কত দিনের জন্য বিনিয়োগ করতে চান, তা স্থির করে নেওয়াই ভাল। দাম অর্ধেক কমে গিয়েছে বলেই তাড়াহুড়ো করে কিনবেন না। কারণ, বাজারে দামের ওঠানামা চলতে পারে। ফলে, লাভের বদলে লোকসানের আশঙ্কাও রয়েছে। তাড়াহুড়ো করে বিনিয়োগ না করে ধীরে ধীরে টাকা লগ্নি করা এবং বাজারের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভাল।