জ্ঞানেশ-বিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই জিডিপি বিতর্কে বড় সড় ধাক্কা খেল দেশের বিরোধী রাজনৈতিক শিবির। সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডার’ বা আইএমএফ (ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড)। শুধু তা-ই নয়, এ ব্যাপারে নয়াদিল্লির সংশোধিত মূল্যায়ন পদ্ধতি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেছে তারা।
গত সেপ্টেম্বর মাসে চলতি অর্থবর্ষের (পড়ুন, ২০২৬-’২৭) জুন ত্রৈমাসিকের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি (গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট) প্রকাশ করে কেন্দ্র। সরকারের দাবি, ওই সময়সীমায় ৭.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পায় সূচক। এই ঘোষণার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে বিস্ফোরক দাবি করে বসেন প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গর্গ। তিনি বলেন, মাত্র ২.৬ শতাংশে দাঁড়িয়ে আছে জিডিপি। তা সত্ত্বেও ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
গর্গের এ-হেন মন্তব্যের জেরে জিডিপি-কে কেন্দ্র করে তুঙ্গে ওঠে শাসক-বিরোধী তরজা। মাস ঘুরতেই যা নিয়ে মুখ খুললেন আইএমএফ-এর এশিয়া-প্যাসিফিক দফতরের ডিরেক্টর কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন। তাঁর কথায়, ‘‘মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের হিসাবের জন্য নয়াদিল্লি যে সংশোধিত পদ্ধতি অবলম্বন করেছে, সেটা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’’
উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বরে জিডিপি-র হার প্রকাশ হতেই এর হিসাবের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন গর্গ। একটি বেসরকারি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের হার বার করতে ভিত্তিবর্ষ বদল করেছে কেন্দ্র। আগে ২০১১-’১২ ভিত্তিবর্ষের উপর জিডিপি নির্ধারণ করা হচ্ছিল। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেটাই বদলে ২০২২-’২৩ করে কেন্দ্র। যার জেরে এর অঙ্ক বেশি মনে হচ্ছে।’’
আরও পড়ুন:
স্বাধীনতার পর জিডিপি নির্ধারণে একাধিক বার ভিত্তিবর্ষ বদল করেছে কেন্দ্র। যার জেরে গর্গের অভিযোগকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেয় মোদী প্রশাসন। উল্টে গোটা ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পরিসংখ্যান সচিব সৌরভ গর্গ বলেন, ‘‘এতে কারচুপির অভিযোগ দুর্ভাগ্যজনক।’’ যদিও তাতে রাজনৈতিক তরজা থামেনি। সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে কেন্দ্রকে বিঁধে সুর চড়াতে থাকে কংগ্রেস।
বলা বাহুল্য, এ-হেন পরিস্থিতিতে আইএমএফ কর্তার সাম্প্রতিকতম মন্তব্যে যথেষ্ট স্বস্তিতে সরকার। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, বিশ্বব্যাপী খনিজ তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সত্ত্বেও অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে ভারত। পরিষেবা ও রফতানিতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ইতিবাচক ফলাফল করেছে তারা। এককথায়, এ দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে বলে স্পষ্ট করেছে আইএমএফ।