চলতি অর্থবর্ষের (২০২৬-২৭) প্রথমার্ধে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) ঊর্ধ্বমুখী রাজকোষ ঘাটতি। এই সময়সীমায় সেটি ছুঁয়েছে ৭.১৪ লক্ষ কোটি টাকা। রাজকোষ ঘাটতিতে ৪২.১ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা রেখেছিল কেন্দ্র। গত আর্থিক বছরের (২০২৫-২৬) একই সময়ে সেটি ছিল ৩৬.৫ শতাংশ। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এ বছর যে সরকারকে বেশি খরচ করতে হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, রাজকোষ ঘাটতি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে অর্থ মন্ত্রক। সেখানে বলা হয়েছে, এই অর্থবর্ষে ঘাটতিকে মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি-র (গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট) ৪.৩ শতাংশে বেঁধে ফেলার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র। টাকার অঙ্কে যেটি ১৬.৯৬ লক্ষ কোটি বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, এ বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরকারের ঘরে এসেছে ১৮.৩৫ লক্ষ কোটি টাকা, যা পূর্ণ বছরের বাজেট অনুমানের ৫০.৩ শতাংশ। গত বছর একই সময় প্রাপ্তির পরিমাণ ছিল, বার্ষিক লক্ষ্যের ৪৯.৫ শতাংশ। এ ছাড়া রাজস্ব প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে ১৭.৫৭ লক্ষ কোটি টাকা, যা বাজেট অনুমানের ৪৯.৭ শতাংশ। এর মধ্যে মোট কর রাজস্ব এবং অ-কর রাজস্বের পরিমাণ যথাক্রমে ১২.৭৬ লক্ষ কোটি ও ৪.৮১ লক্ষ কোটি টাকা।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এ বছরের এপ্রিল-সেপ্টেম্বর মধ্যে বেড়েছে মোট কর রাজস্ব। সেটি পূর্ণ বছরের অনুমানের ৪৪.৫ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে। গত বছর একই সময়ে এর অঙ্ক দাঁড়িয়েছিল ৪৩.৩ শতাংশে। অন্য দিকে, অ-কর রাজস্ব বার্ষিক লক্ষ্যের ৭২.২ শতাংশে দাঁড়িয়ে আছে, যা এক বছর আগের একই সময়ের ৭৯.৯ শতাংশের চেয়ে কম।
আর্থিক বিশ্লেষকদের দাবি, এটি রাজস্ব ঘাটতি কমাতে কেন্দ্রকে সাহায্য করবে। এ বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে খাদ্য, সার এবং পেট্রোলিয়ামের মতো প্রধান ভর্তুকি খাতে প্রায় ৬.৫৫ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। এটি সংশোধিত বার্ষিক লক্ষ্যের ৫৩.৬ শতাংশ, যেটি গত বছরের একই সময়ের বাজেটে বরাদ্দ হওয়া ব্যয়ের ৫১.৮ শতাংশের চেয়ে সামান্য বেশি।