Advertisement
E-Paper

বাড়তে বাড়তে ৯.৯২ শতাংশে পৌঁছোল পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির হার! উৎসবের মরসুমে দামের ছেঁকায় আরও পুড়বে পকেট?

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির হার প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রক। অগস্টে সেই সূচক পৌঁছোয় ৯.৯২ শতাংশে। ফলে খুচরো বাজারে জিনিসপত্রের দাম আরও বাড়তে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:৩৭
Representative Picture

—প্রতীকী ছবি।

ইরান যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে বেলাগাম খনিজ তেল। সেই আঁচে পুড়ছে ভারতের আমজনতার পকেট! হু-হু করে বৃদ্ধি পেয়েছে পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির অঙ্ক। বলা বাহুল্য, এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে উৎসবের মরসুমে আগুনে দামে বিক্রি হবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য। এর জেরে নরেন্দ্র মোদী সরকারের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ।

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির হার প্রকাশ করে কেন্দ্র। সেখানে বলা হয়েছে, চলতি বছরের অগস্টে ৯.৯২ শতাংশে পৌঁছোয় এর সূচক। গত জুলাইতে এটা ছিল ৯.৭৮ শতাংশ। পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির এ-হেন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে বেশ উদ্বেগজনক বলেই চিহ্নিত করেছেন আর্থিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইতে খাদ্য সূচকের মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৬.৬৫ শতাংশ। অগস্টে সেটা বেড়ে ৭.০৫ শতাংশে পৌঁছোয়। উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে ৮.৩৭ শতাংশে দাঁড়িয়ে আছে পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হার। জুলাইতে সেটা ছিল ৮.২৯ শতাংশ। গত কয়েক মাস ধরেই এই সূচক লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

এ ছাড়া, অগস্টে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে পাইকারি মূল্যসূচক ছিল ২২.৯৩ শতাংশ। এই তথ্য প্রকাশের পর বিবৃতি দেয় কেন্দ্রের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রক। সরকার জানিয়েছে, খনিজ তেল, খাদ্যদ্রব্য, মৌলিক ধাতু এবং রাসায়নিক দ্রব্য উৎপাদনের আমদানি খরচ বেড়েছে। এর জেরে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে মুদ্রাস্ফীতির অঙ্ক।

পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির মতো খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হারও প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও বাস্তবায়ন মন্ত্রক। চলতি বছরের জুলাইতে সেটা ছিল ৪.৪৫ শতাংশ। অগস্টে আমদানি খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় সেটাও চড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আগামী দিনে বাড়তে পারে চাল-ডাল-তেল-নুনের মতো দৈনন্দিন খাদ্যদ্রব্যের দাম।

উল্লেখ্য, বর্তমান আর্থিক বছরের (২০২৬-’২৭) গোড়া থেকেই ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে ভারতের পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির সূচক। গত ফেব্রুয়ারি থেকে চলা ইরান যুদ্ধের জেরে বন্ধ রয়েছে সমুদ্র বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা হরমুজ় প্রণালী। ওই পথেই এত দিন উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলি থেকে খনিজ তেল আমদানি করছিল দিল্লি।

প্রসঙ্গত, জ্বালানির ব্যাপারে ভারত একেবারেই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। অপরিশোধিত তেলের সিংহভাগ বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে নয়াদিল্লি। এর দাম ১০০ ডলার ছাপিয়ে গিয়েছে। তা ছাড়া ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে সারের দরও। এরই প্রভাবে ঘরোয়া বাজারে চড়ছে খাদ্যদ্রব্যের দাম, বলছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।

এ ছাড়া, জুলাইতে দেওয়া মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকে এল নিনোর কথা উল্লেখ করেছে ভারতীয় রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই)। এর প্রভাবে ফসল উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এর জেরে চলতি আর্থিক বছরে (২০২৬-’২৭) খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার পাঁচ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানিয়েছে আরবিআই।

Inflation rate Annual Inflation Retail Inflation

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy