বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) অ্যাকাউন্টে কি সত্যিই জমা পড়ছে সুদ? এই সুবিধা সবসময়ের জন্য নয়। কখনও কখনও বন্ধও হতে পারে সুদের টাকা! এমপ্লয়িজ় প্রভিডেন্ট ফান্ড (ইপিএফ) গ্রাহকদের জানা প্রয়োজন কখন তাঁদের অ্যাকাউন্ট ‘অকার্যকর’ হয়ে যেতে পারে এবং কী ভাবে তা সঠিক ভাবে পরিচালনা করা যায়।
শুধুমাত্র চাকরি ছেড়ে দেওয়া বা চাকরি পরিবর্তনের কারণেই একটি ইপিএফ অ্যাকাউন্ট অকার্যকর হয়ে যায় না। নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু শর্ত এবং ৩৬ মাসের একটি সময়সীমা রয়েছে, যার পরে আর সেই অ্যাকাউন্টে সুদ জমা হয় না। তেমনটাই বলছে পিএফ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা এমপ্লয়িজ় প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজ়েশন (ইপিএফও)।
আরও পড়ুন:
বিষয়টি প্রসঙ্গে গত ২০ অগস্ট তাদের এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টও করেছে ইপিএফও। পোস্টে লেখা, “আসুন অকার্যকর ইপিএফ অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই। জানুন, কখন আপনার ইপিএফ-এ সুদ জমা হওয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং সেই অনুযায়ী টাকা তোলার পরিকল্পনা করুন।’’
সেই পোস্টে চারটি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা পুরোনো ইপিএফ ব্যালেন্সের উপর সুদ জমা হওয়া বন্ধ হয়ে গেছে বলে ধরে নেওয়ার আগে প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্টধারীদের অবিলম্বে বুঝে নেওয়া উচিত। এটি দীর্ঘমেয়াদী ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনায় এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড গ্রাহকের হিসাবে এক জন তাঁর কর্মজীবনে মোট কত অর্থ জমা করতে পারবেন, তার আনুমানিক হিসাব করতেও সাহায্য করতে পারে।
আরও পড়ুন:
ইপিএফও-র নিয়ম বলছে, ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সে অবসর গ্রহণের তিন বছর পর একজন ব্যক্তির ইপিএফ অ্যাকাউন্ট অকার্যকর হয়ে যায়। ফলে ওই অ্যাকাউন্টে সুদ জমা হওয়াও বন্ধ হয়। ইপিএফ প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, আগাম অবসরের (অর্থাৎ ৫৫ বছরের আগে) ক্ষেত্রে ইপিএফ অ্যাকাউন্টটি অবিলম্বে অকার্যকর হয়ে যায় না। সদস্যের বয়স ৫৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত এতে সুদ জমা হতে থাকে। এর পরই অ্যাকাউন্টটি অকার্যকর হিসেবে গণ্য হয়।
অ্যাকাউন্টধারীদের মনে রাখা প্রয়োজন, পুরোনো ইপিএফ ব্যালেন্সকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। কর্মসংস্থান ও ইউএএন-এর তথ্য আপডেটেড রাখা, যোগ্য ব্যালেন্স স্থানান্তর করা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে টাকা তোলার দাবির আবেদনের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টটিকে অকার্যকর হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব। এই তহবিলে জমা হওয়া অর্থ নিয়ম মেনে তোলাও যেতে পারে। তাই, ৩৬ মাসের সময়সীমা কখন শুরু হয় এবং কখন প্রকৃতপক্ষে সুদ জমা হওয়া বন্ধ হয় সে বিষয়টি অ্যাকাউন্টধারীদের মাথায় রাখা উচিত বলেই মনে করছে পিএফ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাটি।