ঘরোয়া বাজারে অগ্নিমূল্য চিনি। বাড়তে বাড়তে ইতিমধ্যেই রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে দাম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুল্কমুক্ত ১০ লক্ষ টন শর্করা আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই শেয়ারবাজারে মুখ থুবড়ে পড়ল চিনির স্টক! এর জেরে সপ্তাহের শেষ লেনদেনের দিনে বিপুল লোকসান হওয়ায় মাথায় হাত লগ্নিকারীদের।
শুক্রবার, ২১ অগস্ট বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই লাফিয়ে লাফিয়ে নামতে থাকে চিনির শেয়ার। ব্রোকারেজ ফার্মগুলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে শর্করা সংস্থাগুলির পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত পড়েছে স্টকের সূচক। এর মধ্যে অন্যতম হল ডালমিয়া ভারত সুগার অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ় লিমিটেড। এ দিন ১.৭৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪৯৯.৩০ টাকায় নেমে আসে সেটির শেয়ার।
আরও পড়ুন:
একই ভাবে প্রায় তিন শতাংশ কমেছে দ্বারিকেশ সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ় লিমিটেডের স্টকের দর। বর্তমানে ৫৩.৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে সেটি। বলরাম চিনি মিল্স, ত্রিবেণী ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ় এবং উত্তম সুগার মিল্সের শেয়ার সস্তা হয়েছে যথাক্রমে ৫.১৪, ২.১৮ এবং ৩.৩৪ শতাংশ। এ দিন বাজার বন্ধ হওয়ার সময় এগুলির স্টক নেমে আসে ৭২৭.৭০, ২৯৩.৭২ এবং ৩২৪.৯৮ টাকায়।
এ ছাড়া দাম পড়েছে ইদ প্যারি, ধামপুর সুগার মিল্স, বাজাজ হিন্দুস্তান সুগার, শ্রী রেনুকা সুগার্স এবং সিম্বাওলি সুগার্সের। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির শেয়ারে লগ্নিকারীরা দুই থেকে চার শতাংশ পর্যন্ত লোকসান করেছেন। তালিকায় একমাত্র ব্যতিক্রমী নামটি হল সুগার অ্যান্ড এনার্জি। এ দিন ৪.৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এর স্টকের দর। ফলে ৮৫০ টাকায় উঠে এসেছে সেটি।
চিনের শেয়ার মুখ থুবড়ে পড়লেও সপ্তাহের শেষ দিনে ঊর্ধ্বমুখী থেকেই লেনদেন শেষ করে বাজার। যদিও বম্বে ও ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে দিনভর অব্যাহত থেকেছে অস্থিরতা। এ দিন মাত্র ৩.১১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৭৭,৫৪০.৮৩-তে দৌড় থামায় সেনসেক্স। অন্য দিকে, ২০ পয়েন্ট বেড়েছে নিফটি-৫০। এই সূচক দাঁড়িয়ে আছে ২৪,২৫২ পয়েন্টে।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ারবাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকিসাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)