সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনে ফের চাঙ্গা শেয়ার বাজার। রকেট গতিতে ছুটছে সেনসেক্স ও নিফটি। সোমবার, ২ নভেম্বর, লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই ১০০০ পয়েন্ট চড়ে যায় বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (বিএসই)। ৩০০ পয়েন্টের বেশি ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (এনএসই)-ও। বলা বাহুল্য, এতে দীপাবলির মুখে মোটা মুনাফা করেছেন লগ্নিকারীরা।
এ দিন, বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই হু-হু করে বাড়তে থাকে সেনসেক্স ও নিফটি-৫০। সকাল ১১টা নাগাদ ৭৫,৪৬৮ পয়েন্টে উঠে যায় বিএসই-র সূচক। অন্য দিকে, একই সময়ে এনএসই-তে তালিকাভুক্ত সেরা ৫০টি সংস্থার সূচককে ২৩,৩৩১ পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। দুই জায়গাতেই বৃদ্ধির পরিমাণ এক শতাংশের বেশি।
আরও পড়ুন:
বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে বেশ কয়েকটি কারণকে চিহ্নিত করেছেন আর্থিক বিশ্লেষকদের একাংশ। প্রথমত, ইরান যুদ্ধে ইতি টানতে লাগাতার আলোচনা চালাচ্ছে আমেরিকা। ফলে, বিশ্ব বাজারে কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। সোমবার, সেটি গত ছ’মাসের সর্বোচ্চ স্তর থেকে অনেকটাই নীচে নেমে আসে। এতে জ্বালানি খরচ হ্রাস পাওয়ায় স্বস্তিতে ভারতীয় অর্থনীতি।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ব্যারেল প্রতি ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হচ্ছিল ১১৮ ডলারে। এই দাম গত ছ’মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ দিন, দর কমে ১১০ ডলারে নেমে আসে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড। এ ছাড়া, সম্প্রতি চলতি আর্থিক বছরের (২০২৬-২৭) দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের ফলাফল প্রকাশ করে রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ়। সেখানে প্রত্যাশার চেয়ে ভাল ফল করেছে ধনকুবের শিল্পপতি মুকেশ অম্বানীর সংস্থা।
এর ফলে রিলায়্যান্সের শেয়ারের দর লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে দেখা গিয়েছে। এ দিন, সকাল ১১টার মধ্যে প্রায় ছ’শতাংশ বৃদ্ধি পায় মুকেশের সংস্থার স্টকের মূল্য। এতে বাজারের প্রতি লগ্নিকারীদের যে আস্থা ফিরেছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
অন্য দিকে, হঠাৎ করেই বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম মেধা বা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) বাণিজ্যের দুর্বলতা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, খাদে পড়ে মার্কিন শেয়ার বাজার নাসডাকের সূচক। ওই তারিখে এতে পতনের পরিমাণ ছিল ২.৮ শতাংশ। বিএসই ও এনএসই-তে সে ভাবে তালিকাভুক্ত নেই কোনও এআই সংস্থা। ফলে, ভারতীয় বাজারের প্রতি লগ্নিকারীদের আকর্ষণ বাড়ছে।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ার বাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকিসাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)