মহাষ্টমীতে শেয়ারে লগ্নিকারীদের মাথায় হাত! সপ্তাহের প্রথম লেনদেনের দিনে ফের পড়ল বাজার। সোমবার, ১৯ অক্টোবর এক শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে সেনসেক্স ও নিফটি-৫০। উল্লেখ্য, দ্বিতীয়া থেকে পঞ্চমী পর্যন্ত বেশ চাঙ্গা ছিল বম্বে ও ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ। পুজোর মধ্যে সেই ধারা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছিল। যদিও বাস্তবে উল্টো ছবি দেখা যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা।
এ দিন বাজার বন্ধ হলে দেখা যায়, ৭৩,৮৫২.৯০ পয়েন্টে দৌড় থামিয়েছে সেনসেক্স। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে (বিএসই) পতনের পরিমাণ ৮৭৬.৩৮ পয়েন্ট। শতাংশের নিরিখে যেটা ১.১৭। একই ছবি ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জেরও (এনএসই)। সেখানকার নিফটি-৫০ নেমে এসেছে ২২,৮৮৮.৯৫ পয়েন্টে। অর্থাৎ ২৫৭.২০ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে সূচক, যেটা ১.১১ শতাংশ।
সেনসেক্স ও নিফটি-৫০র পতনের জেরে এ দিন বাজার থেকে উবে গিয়েছে চার লক্ষ কোটি টাকা। বিএসই-তে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মূলধনের অঙ্ক সর্বশেষ লেনদেনের নিরিখে ৪৭২.৬ লক্ষ কোটি থেকে কমে ৪৬৯ লক্ষ কোটি টাকায় চলে এসেছে। স্টকের সূচক নিম্নমুখী হওয়ার জন্য মূলত তিনটি কারণকে চিহ্নিত করেছে আর্থিক বিশেষজ্ঞ মহল।
প্রথমত, সোমবার বিশ্ববাজারে ফের বৃদ্ধি পায় খনিজ তেলের দাম। এ দিন ব্যারেল প্রতি ব্রেন্ট ক্রুড ১০৮ ডলারে ঘোরাঘুরি করেছে। ‘তরল সোনা’র দর ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় মুদ্রাস্ফীতির হার বেলাগাম হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউই। ফলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ককে একাধিক কঠোর নীতি নিতে দেখা যাচ্ছে। যার প্রভাবে নিম্নমুখী হয়েছে এদেশের বাজার।
আরও পড়ুন:
দ্বিতীয়ত, ইতিমধ্যেই সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকের ফলাফল প্রকাশ করেছে ভারতের অধিকাংশ বেসরকারি ব্যাঙ্ক। সেখানে পারফরম্যান্স দুর্দান্ত না হওয়ায় তাদের থেকে মুখ ফিরিয়েছেন লগ্নিকারীদের একাংশ। উদাহরণ হিসাবে অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক এবং ইয়েস ব্যাঙ্কের কথা বলা যেতে পারে। যাদের শেয়ারের দাম এদিন হ্রাস পেয়েছে গড়ে প্রায় পাঁচ শতাংশ। ফলে, এক শতাংশ পড়ে যায় নিফটি ব্যাঙ্কের সূচক।
সব শেষে অবশ্যই বলতে হবে বিদেশি লগ্নিকারীদের কথা। অক্টোবরে এখনও পর্যন্ত ভারতীয় বাজার থেকে ৫২,১০০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন তাঁরা। চলতি বছরে মোট ৩ লক্ষ ১২ হাজার ৪০২ কোটি টাকা মূল্যের স্টক বিক্রি করতে দেখা গিয়েছে তাঁদের। এর জেরেও বারবার খাদে পড়ছে সূচক।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ারবাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকিসাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)