পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে রক্তাক্ত শেয়ারবাজার। ফলে স্টক বা মিউচুয়াল ফান্ডের মতো ঝুঁকিপূর্ণ লগ্নি থেকে মুখ ফেরাচ্ছে আমজনতা। শুধু তা-ই নয়, ডাকঘরের প্রথাগত বিনিয়োগে বাড়ছে উৎসাহ। এর মধ্যে অন্যতম হল ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট (এনএসসি) ও কিসান বিকাশ পত্র (কেভিপি)।
ডাকঘরের স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলির মধ্যে এই দু’টি বেশ জনপ্রিয়। তবে এনএসসি ও কেভিপির মেয়াদ ও সুদের হার এক নয়। এর জেরে স্বাভাবিক ভাবেই আসে একটি প্রশ্ন— এর মধ্যে কোনটিতে লগ্নি বেশি লাভজনক? সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে তারই হদিস দিল আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
বর্তমানে এনএসসিতে বার্ষিক ৭.৭ শতাংশ হারে সুদ পেয়ে থাকেন গ্রাহক। অন্য দিকে, কেভিপিতে সুদের হার ৭.৫ শতাংশ। প্রথমটিতে পাঁচ বছরের মেয়াদে করা যায় বিনিয়োগ। দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে আবার ১১৫ মাসে দ্বিগুণ হবে টাকা! অর্থাৎ ঠিক ন’বছর সাত মাসের মাথায় ‘ডবল রিটার্ন’ পাবেন লগ্নিকারী।
একটি উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি বুঝে নেওয়া যেতে পারে। ধরা যাক কোনও ব্যক্তি এক লাখ টাকা এনএসসিতে বিনিয়োগ করলেন। পাঁচ বছরের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯০০ টাকা পাবেন তিনি। অর্থাৎ ৭.৭ শতাংশ হারে তাঁর প্রাপ্ত সুদের পরিমাণ হল ৪৪,৯০০ টাকা।
আরও পড়ুন:
কিন্তু, ওই ব্যক্তি সমপরিমাণ টাকা কেভিপিতে রাখলে ১১৫ মাস বাদে মোট দু’লাখ টাকা হাতে আসবে তাঁর। যদিও আর্থিক বিশ্লেষকদের একাংশের এই ধরনের তুলনায় আপত্তি রয়েছে। তাঁদের যুক্তি, কেভিপির প্রায় অর্ধেক সময়ে যথেষ্ট ভাল মুনাফা দিচ্ছে এনএসসি। আর তাই দীর্ঘ সময় সুনির্দিষ্ট প্রকল্পে আটকে থাকতে না চাইলে এটি বেছে নিতে পারেন গ্রাহক।
এ ছাড়া, আয়করের ক্ষেত্রেও এই দুই বিনিয়োগে বিস্তর ফারাক রয়েছে। পুরনো কাঠামোয় ৮০সি ধারা অনুযায়ী এনএসসিতে কর ছাড়ের সুবিধা পেয়ে থাকেন লগ্নিকারী, যেটা কেভিপিতে নেই। বিনিয়োগের সময় সেটাও মাথায় রাখতে হবে গ্রাহককে।
বিশেষজ্ঞদের কথায়, আর্থিক পরিস্থিতি, ঋণের পরিমাণ এবং পারিবারিক দায়দায়িত্ব মাথায় রেখে এনএসসি এবং কেভিপির মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে। লগ্নির সময় অবশ্যই ডাকঘরের নিয়মাবলি এবং সুদের হারের পরিমাণ বুঝে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।