আরটিই আইন চালু হওয়ার আগে নিযুক্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক টেট পরীক্ষা থেকে অব্যাহতি, বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানো এবং স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনার দাবি-সহ মোট ১৫ দফা দাবিতে সরব হলেন শিক্ষকদের একাংশ।
নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির তরফে এই মর্মে শুক্রবার বিধাননগরের সেন্ট্রাল পার্কের কাছে সমাবেশ আয়োজিত হয়েছিল। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতির কাছে ১৫ দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দেয় শিক্ষক সংগঠনটি।
স্মারকলিপিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা, বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য একাধিক পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের অন্যতম দাবি, আরটিই আইন চালু হওয়ার আগে নিযুক্ত শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক টেট পরীক্ষা থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। এ বিষয়ে অন্যান্য কয়েকটি রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও প্রস্তাব গ্রহণ করে তা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানোর আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।
এনসিটিই নির্ধারিত ন্যূনতম যোগ্যতা নেই, এমন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বা প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনের ব্যবস্থা করার দাবিও জানানো হয়েছে। সংগঠনের দাবি, এই প্রশিক্ষণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন টেটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা উচিত নয়। পাশাপাশি, বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারকে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানোর দাবিও তুলেছেন তাঁরা।
বেতন ও ভাতা সংক্রান্ত দাবির মধ্যে রয়েছে পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং গ্রান্ট-ইন-এড কর্মীদের বকেয়া ডিএ দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া। বকেয়া ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ইন্দু মলহোত্র কমিটির কাছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে হলফনামা জমা দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ ছাড়া, দীর্ঘদিন ধরে অন্য জেলায় কর্মরত শিক্ষকদের নিজের জেলা বা বাড়ির কাছাকাছি বদলির সুযোগ দেওয়ার দাবি উঠেছে। নতুন শিক্ষক নিয়োগের আগেই এই বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। শিক্ষকদের পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় আনার পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আগের মতো দুটি অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার দাবিও রয়েছে স্মারকলিপিতে।
আরও পড়ুন:
বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একাধিক দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রতিটি শ্রেণির জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বিদ্যালয়গুলিতে ইন্টারনেট-সহ কম্পিউটারের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, শিক্ষকদের কম্পিউটার ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়ার দাবিও তোলা হয়েছে।
অনলাইন ব্যবস্থার বদলে সরাসরি প্রশিক্ষণের পক্ষে সওয়াল করেছে সংগঠনটি। তাঁদের মতে, শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য মুখোমুখি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। মিড ডে মিল পরিচালনার দায়িত্ব স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কর্মীদের হাতে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের মাসে অন্তত ১০ হাজার টাকা সম্মানিক দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। বছরে এক মাসের বোনাস-সহ মোট ১৩ মাসের সম্মানিক দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে শিক্ষক সংগঠনটি।