রাজস্থান বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (আরবিএসই) দশম শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা বছরে দু’বার নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের উপর থেকে পরীক্ষার চাপ কমানোর পাশাপাশি ফল উন্নত করার অতিরিক্ত সুযোগ দিতেই এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে বলে বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম বোর্ড পরীক্ষায় সব দশম শ্রেণির পরীক্ষার্থীকে বসতে হবে। এই পরীক্ষা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে হওয়ার কথা। প্রথম পরীক্ষার পর ফল উন্নত করার সুযোগ পাবেন পড়ুয়ারা। প্রথম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ তিনটি বিষয়ে দ্বিতীয় পরীক্ষায় বসতে পারবেন। এই পরীক্ষা ২০২৭ সালের মে-জুন মাসে হতে পারে।
দুই পরীক্ষার মধ্যে কোনও বিষয়ে যে পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়া যাবে, চূড়ান্ত ফলাফলে সেই নম্বরই বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ, কোনও পড়ুয়া প্রথম পরীক্ষায় একটি বিষয়ে ৬০ নম্বর পেলেন এবং দ্বিতীয় পরীক্ষায় একই বিষয়ে ৭০ নম্বর পেলেন, তা হলে চূড়ান্ত ফলাফলে ৭০ নম্বরই ধরা হবে।
আরও পড়ুন:
নতুন ব্যবস্থায় প্রচলিত সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষাও তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। তার পরিবর্তে দ্বিতীয় পরীক্ষার মাধ্যমেই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অকৃতকার্য পড়ুয়াদের ফল উন্নত করার সুযোগ দেওয়া হবে। সর্বোচ্চ দু’টি বিষয়ে ৩৩ শতাংশের কম নম্বর পাওয়া পড়ুয়ারা ‘এসেনশিয়াল ইমপ্রুভমেন্ট’ বিভাগের অধীনে দ্বিতীয় পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন। একটি বিষয়ে অনুপস্থিত থাকা এবং অন্য একটি বিষয়ে ৩৩ শতাংশের কম নম্বর পেলেও এই সুযোগ পাওয়া যাবে।
এর ফলে কোনও বিষয়ে কম নম্বর পাওয়ার কারণে পড়ুয়াদের এক বছর অপেক্ষা করতে হবে না। একই শিক্ষাবর্ষে দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় বসে ফল উন্নত করার সুযোগ থাকবে। তবে তিন বা তার বেশি বিষয়ে অকৃতকার্য হলে দ্বিতীয় পরীক্ষায় বসার সুযোগ থাকবে না। সে ক্ষেত্রে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে সব বিষয়ে আবার পরীক্ষা দিতে হবে।
দ্বিতীয় পরীক্ষার ক্ষেত্রেও দশম শ্রেণির নির্ধারিত সিলেবাসই অনুসরণ করা হবে। পরীক্ষার জন্য আলাদা কোনও সিলেবাস থাকবে না। পাশাপাশি, প্রথম পরীক্ষার সময়ে যে ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্ট এবং প্র্যাকটিক্যালের নম্বর পাওয়া যাবে, দ্বিতীয় পরীক্ষার ক্ষেত্রেও সেই নম্বরই বহাল থাকবে।
বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হল একটি মাত্র বোর্ড পরীক্ষার ফলের উপর পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নির্ভরতা কমানো। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে দ্বিতীয় সুযোগে ফলাফল আরও ভাল করার সুযোগ পাবেন।