সম্প্রতি আয়োজিত ‘ফরেন মেডিক্যাল গ্র্যাজুয়েট এগ্জ়ামিনেশন’-এর (এফএমজিই) ফলপ্রকাশ হয়েছে। যদিও তার উত্তরসঙ্কেত প্রকাশিত হয়নি। এ বার সেই পরীক্ষারই প্রশ্নপত্রের মান ও পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন বহু পরীক্ষার্থী।
পরীক্ষার্থীদের দাবি, প্রত্যাশার চেয়ে কঠিন প্রশ্নপত্র, আকস্মিক ভিডিয়ো-ভিত্তিক প্রশ্ন এবং বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাঁরা। এর প্রেক্ষিতে ক্ষতিপূরণ নম্বর চেয়ে সরব হয়েছে সর্বভারতীয় স্তরের এক চিকিৎসক সংগঠন। প্রার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ‘অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন-ফরেন মেডিক্যাল স্টুডেন্টস উইং’-এর (এআইএমএস-এফএমএসডব্লুউ) এক প্রতিনিধি দল ন্যাশনাল বোর্ড অফ এগ্জ়ামিনেশন ইন মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এর (এনবিইএমএস) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রার্থীরা কোন কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, তা বিশদে তুলে ধরা হয়। সূত্রের খবর, বোর্ড পরীক্ষার্থীদের দাবি শোনার পর ভিডিয়ো-ভিত্তিক প্রশ্ন ও ক্ষতিপূরণ নম্বরের বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে ২৪ ঘণ্টা সময় চেয়েছেন।
কী কী অভিযোগ প্রার্থীরা?
কঠিন প্রশ্ন ও ভিডিয়ো প্রশ্ন: পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ বারের প্রশ্নপত্র খুবই কঠিন ছিল। অনেক কেন্দ্রে কোনও পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই ভিডিয়ো-ভিত্তিক প্রশ্ন দেওয়া হয়েছিল।
পরিকাঠামোগত ত্রুটি: বেশ কিছু পরীক্ষাকেন্দ্রে পর্যাপ্ত সুযোগসুবিধার অভাব এবং প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের কারণে পরীক্ষা দিতে সমস্যায় পড়েন অনেকে।
উত্তরপত্র ও ক্ষতিপূরণ নম্বর: ফল প্রকাশ হয়ে গেলেও, প্রার্থীরা তাঁদের উত্তর মেলাতে ও আনুমানিক নম্বর জানতে এফএমজিই ২০২৬-এর ‘আনসার কি’ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য সঠিক মূল্যায়ন ও বিশেষ ক্ষতিপূরণ নম্বরের দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বৈঠকের পর বোর্ডের তরফে এখনও নতুন কোনও বিবৃতি জারি করা হয়নি। তবে এর আগে এনবিইএমএস জানিয়েছিল, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মান খতিয়ে দেখার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হবে এবং দু’সপ্তাহের মধ্যে তাঁরা রিপোর্ট জমা দেবেন।
অন্য দিকে, গত ৭ অগস্ট লোকসভায় বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলে কেন্দ্র। সরকারের তরফে জানানো হয়, জুন ২০২৬ এফএমজিই-এর আগে পরীক্ষার্থীদের যে অফিশিয়াল ‘ডেমো টেস্ট’ দেওয়া হয়েছিল, তাতেই ভিডিয়ো-ভিত্তিক প্রশ্নের ফরম্যাট অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ছাড়া, এ বছর জুনের এফএমজিই পরীক্ষার পাসের হার ১২.৭৮ শতাংশ বলে কেন্দ্র জানিয়েছে। পরীক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা এবং ডাক্তারি শিক্ষার গুণমানের উপরই পাশের হার নির্ভর করে বলেও সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।