Advertisement
E-Paper

পুজোর ছুটিতে পড়াশোনা! ঘণ্টা দুয়েকের অভ্যাসে কী ভাবে উৎসবের দিনেও প্রস্তুত হওয়া যাবে আসন্ন পরীক্ষার জন্য?

প্রথমেই ঠিক করতে হবে, এই দু’ঘণ্টায় কী পড়তে হবে। এক দিনে সব বিষয় পড়ার চেষ্টা না করে প্রতিদিন দু’টি বিষয় বেছে নেওয়া যেতে পারে। একটি তুলনামূলক কঠিন বিষয় এবং অন্যটি যে বিষয়ে পড়ুয়ার আগ্রহ বেশি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৪:৪১
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

পুজোর ছুটি মানেই পড়াশোনা পুরোপুরি বন্ধ নয়। আবার ছুটির দিনগুলিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই নিয়ে বসে থাকাও সব পড়ুয়ার পক্ষে সম্ভব নয়। পুজোর আনন্দ, ঘোরাঘুরি এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি প্রতিদিন মাত্র দু’ঘণ্টা পড়াশোনার জন্য রাখলে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিও এগিয়ে রাখা সম্ভব। তার জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা এবং নিয়ম মেনে পড়ার অভ্যাস।

কঠিন বিষয়ের পাঠ

প্রথমেই ঠিক করতে হবে, এই দু’ঘণ্টায় কী পড়তে হবে। এক দিনে সব বিষয় পড়ার চেষ্টা না করে প্রতিদিন দু’টি বিষয় বেছে নেওয়া যেতে পারে। একটি তুলনামূলক কঠিন বিষয় এবং অন্যটি যে বিষয়ে পড়ুয়ার আগ্রহ বেশি। এ ভাবে বিষয় বাছাই করলে পড়াশোনার চাপ কম মনে হবে। প্রথম এক ঘণ্টা অঙ্ক বা বিজ্ঞান পড়ে দ্বিতীয় ঘণ্টায় বাংলা, ইংরেজি বা ইতিহাসের মতো বিষয় রাখা যেতে পারে।

ভাগে ভাগে পড়া

আবার একটানা দু’ঘণ্টা না পড়ে, সময়কে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে ফেললেও কাজ হবে। প্রথম ৫০ মিনিট নতুন কোনও অধ্যায় পড়া বা আগের পড়া বিষয় ভাল করে বোঝার জন্য রাখা যেতে পারে। তার পরে ৫-১০ মিনিটের ছোট বিরতি নিয়ে পরের ৫০ মিনিট অনুশীলন বা পুনরাবৃত্তির জন্য ব্যবহার করা যায়। একেবারে শেষ ১০ মিনিটে সারা দিনের পড়া এক বার চোখ বুলিয়ে দেখে নেওয়া যেতে পারে।

কী কী পড়া বাকি

ছুটির সময়ে নতুন অধ্যায় শেষ করার পাশাপাশি আগের পড়া ঝালিয়ে নেওয়াও জরুরি। স্কুলে যে অধ্যায়গুলি ইতিমধ্যে পড়ানো হয়েছে, তার মধ্যে কোনগুলি এখনও ভাল ভাবে আয়ত্ত হয়নি, তার একটি তালিকা তৈরি করা যেতে পারে। প্রতিদিনের দু’ঘণ্টার একটি অংশ সেই দুর্বল জায়গাগুলির জন্য রাখলে ছুটি শেষে নতুন করে সব পড়তে হবে না।

হাতে-কলমে অনুশীলন

অঙ্ক, বিজ্ঞান বা অন্য যে বিষয়গুলিতে নিয়মিত অনুশীলন প্রয়োজন, সেগুলির ক্ষেত্রে শুধু বই পড়ে না থেকে প্রশ্ন সমাধান করা উচিত। প্রতিদিন কয়েকটি অঙ্ক বা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন লিখে অনুশীলন করলে পরীক্ষার প্রস্তুতি আরও ভাল হবে। একই ভাবে ভাষার বিষয়গুলিতে লেখা, ব্যাকরণ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর লেখার অভ্যাস করা যেতে পারে।

পড়াশোনার উপযুক্ত শান্ত পরিবেশ

পুজোর ছুটিতে পড়াশোনার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেছে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। সকাল বা সন্ধ্যার এমন একটি সময় ঠিক করা যেতে পারে, যখন বাড়িতে তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ থাকে। প্রতিদিন একই সময়ে পড়তে বসলে আলাদা করে মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন কমে যায়। তবে পুজোর দিনগুলিতে সময়ের কিছুটা পরিবর্তন হলে সমস্যা নেই। মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, কোনও দিনই যেন পুরোপুরি পড়াশোনা বাদ না যায়।

মোবাইল থাক অন্য ঘরে

এই সময়ে মোবাইল ফোনের ব্যবহারও নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। দু’ঘণ্টার পড়ার সময় সমাজমাধ্যম, ভিডিয়ো বা গেম থেকে দূরে থাকলে অল্প সময়েই বেশি পড়া সম্ভব। পড়ার সময়ে ফোন অন্য ঘরে রেখে দেওয়া বা নোটিফিকেশন বন্ধ করে রাখার মতো ছোট অভ্যাসও কাজে দিতে পারে।

মোটের উপর পুজোর ছুটিতে প্রতিদিন কত ঘণ্টা পড়েছেন, তার চেয়ে কী পড়েছেন এবং কতটা বুঝেছেন, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিদিনের জন্য ছোট লক্ষ্য তৈরি করা উচিত। একটি অধ্যায় পড়া, ১০টি অঙ্ক সমাধান করা বা একটি বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলি ঝালিয়ে নেওয়া। ছুটি শেষে এই ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণই পড়ুয়ার প্রস্তুতিকে অনেকটা এগিয়ে রাখতে পারে।

Puja Holidays

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy