কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণায় নতুন দিশা দেখাতে উদ্যোগী হল ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) খড়্গপুর। বাস্তব জগতের পরিস্থিতি বুঝে সেই অনুযায়ী কাজ করতে পারে, এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করতে ‘ফিজ়িক্যাল এআই’ নিয়ে একটি স্কুল গড়ে তুলতে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রকল্পে মোট ৩৫ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে ফিজ়িক্যাল এআই নিয়ে দেশে বিশেষায়িত গবেষণা ও পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেই মনে করছে আইআইটি খড়্গপুর।
সাধারণত প্রচলিত এআই ব্যবস্থায় তথ্য বিশ্লেষণ, অ্যালগরিদম এবং বিভিন্ন ডিজিটাল কাজের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আইআইটি খড়্গপুর ফিজ়িক্যাল এআই স্কুলের মাধ্যমে বাস্তব পরিবেশের সঙ্গে প্রযুক্তির সংযোগ স্থাপনে জোর দেবে। এর মাধ্যমে সেন্সর, রোবট, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ও বৈজ্ঞানিক মডেলের সাহায্যে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারে, এমন ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
আইআইটি খড়্গপুরের প্রস্তাবিত স্কুলে একাধিক গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হবে বলেই জানানো হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ফিজ়িক্স-ইনফর্মড মেশিন লার্নিং, সায়েন্টিফিক এআই, ডিজিটাল টুইন, ইন্টেলিজেন্ট রোবোটিক্স, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং উন্নত সেন্সিং প্রযুক্তি।
এ ছাড়াও এআই-নির্ভর পরীক্ষানিরীক্ষা এবং উন্নত সেন্সিং প্রযুক্তির উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষত স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিল্পক্ষেত্র এবং এমন সব ক্ষেত্রে, যেখানে সামান্য ভুলও বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে, সেখানে নিরাপদ, ব্যাখ্যাযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য এআই ব্যবস্থা তৈরির উপর জোর দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই স্কুলের অধীনে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানের। ইঞ্জিনিয়ারিং, ভৌতবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রের পড়ুয়া, গবেষক ও পেশাদারদের কথা ভেবে পাঠ্যক্রম তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আইআইটি খড়্গপুরের ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তীর জানিয়েছেন, এআই-এর পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল বাস্তব জগৎকে বোঝা এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে সক্ষম ব্যবস্থা তৈরি করা। এআই কী ভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা বোঝা এবং তার কার্যপ্রণালী স্বচ্ছ রাখা জরুরি। তবেই এই প্রযুক্তিকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তোলা সম্ভব।