গত ২৩ অক্টোবর সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (এসআরএফটিআই) দেওয়ালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্পর্কে আপত্তিকর শব্দ লেখার অভিযোগে পড়ুয়াদের কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হল। সূত্রের খবর, এই ঘটনায় ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি’ গঠন করা হয়েছিল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ওই পড়ুয়াদের শনাক্ত করা গিয়েছে। তাই ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়েছে। এসআরএফটিআই-এর রেজিস্ট্রার দীপক কুমার শুক্রবার জানান, ছ’জন পড়ুয়াকে ওই চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের কাছে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক জন পড়ুয়ার অভিভাবক চিঠি দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে খবর।
সূত্রের খবর, অভিভাবকদের তরফ থেকে কর্তৃপক্ষের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, রাতে ওয়ারেন্ট বা কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া সেখানে পরিচয়হীন পুলিশের প্রবেশ তাঁদের গোপনীয়তা এবং মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করছে। এরপরে প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে খবর। যদিও রেজিস্ট্রার দীপক কুমার পাল্টা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, ওই ই-মেলের উত্তর দেওয়া হবে। তবে কী ভাবে বা কবে দেওয়া হবে সেটা পরে জানানো হবে। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের দাবিও জানানো হয়েছে। যদিও রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন ওই ই-মেল দেখা হয়নি।
আরও পড়ুন:
গত ২৭ সেপ্টেম্বরই এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে গোলমাল শুরু হয়। ওই দিন অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ পরিস্থিতি শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে বহিরাগতেরা পড়ুয়াদের মারধর করেছেন। পাল্টা অভিযোগ তোলে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতও। তারপর থেকেই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন পড়ুয়ারা। বন্ধ হয় পঠনপাঠন। পরে, ৪ অক্টোবর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও এক দফায় ক্যাম্পাসে হামলা চালান বহিরাগতেরা, অভিযোগ এমনই। সেই সময় থেকে এখনও কার্যত অচলাবস্থা চলছে। ইতিমধ্যে হস্টেল ও মেস বন্ধ করেছেন কর্তৃপক্ষ। আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ক্লাস বন্ধ রাখার বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়েছে। পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ক্যাম্পাসে। গত ২৭ অক্টোবর সংহতি জানিয়েছেন যাদবপুর সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা। তার আগে অভিনেতা নসীরুদ্দীন ও পরে চলচ্চিত্র পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, অভিনেতা ঋদ্ধি সেন সহ অনেকেই সংহতি জানিয়েছেন। উপাচার্যের পদত্যাগ-সহ ওই দুই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে পড়ুয়ারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।