রাজ্যের সব সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে পড়ুয়াদের জন্য নিরাপদ ও পরিষ্কার পানীয় জল নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ করল জনস্বাস্থ্য কারিগরি অধিদফতর (পিএইচই ডিরেক্টরেট)। ‘স্বচ্ছ ও হরিৎ বিদ্যালয় রেটিং’ (এসএইচভিআর) প্রক্রিয়ার আওতায় প্রতিটি স্কুলের পানীয় জলের নমুনা সংগ্রহ করে তার গুণমান পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ স্কুলগুলিকে দেওয়া হবে ‘ওয়াটার কোয়ালিটি টেস্ট সার্টিফিকেট’।
সম্প্রতি পিএইচই দফতরের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, সব ডিভিশনের এগজ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারদের দ্রুত এই প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে জল সংগ্রহ, পরীক্ষা এবং শংসাপত্র দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার পিএইচই দফতরের এগজ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারেরা স্কুলগুলিতে জল পরীক্ষার বিষয়টি তদারকি করবেন।
সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষক মহলের একাংশ। শিয়ালদহ মিত্র ইনস্টিটিউশনের (মেন) প্রধানশিক্ষক সায়ন্তন দাস বলেন, ‘‘পানীয় জলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবশ্যই নিয়মিত পরিষ্কার ও পরীক্ষা করা উচিত।’’ তবে অন্য এক শিক্ষকের বক্তব্য, স্কুলগুলিকে দেওয়া কম্পোজ়িট গ্রান্ট দিয়ে প্রতিবছর পানীয় জলের ট্যাঙ্ক ও জলের উৎস পরিষ্কার করার খরচ চালানো সবসময় সম্ভব হয় না। তাই শুধু জলের নমুনা পরীক্ষা নয়, পানীয় জলের উৎস নিয়মিত পরিষ্কার রাখার জন্যও আলাদা সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:
-
রাজ্যের সব স্কুলে ডেঙ্গি সচেতনতা বৃদ্ধিতে তৎপর স্কুলশিক্ষা দফতর, ‘গ্রিন স্কুল’ গড়ার লক্ষ্যে জারি হল বিজ্ঞপ্তি
-
অভিভাবকেরাও জানতে পারবেন সন্তানের পড়াশোনার অগ্রগতি, প্রাথমিক স্কুল নিয়ে নির্দেশিকা জারি পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশনের
-
ক্লাসের মধ্যেই সহপাঠীকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ সাউথ পয়েন্ট স্কুলে, হাসপাতালে ভর্তি করানো হল নবম শ্রেণির ছাত্রকে
উল্লেখ্য, গত অগস্টে দেশবন্ধু পার্কের কাছে পার্ক ইনস্টিটিউশন ফর গার্লস স্কুলের ৩৩ জন পড়ুয়া একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর সকলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে সময় প্রধানশিক্ষিকা অলকানন্দা মজুমদার জানিয়েছিলেন, বছরে নিয়মিত দু’বার করে জলের ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করা হয়। ইতিমধ্যে এক বার পরিষ্কার করা হয়ে গিয়েছে। বাকি আর এক বারও তাড়াতাড়ি করা হবে। তবে ওই ঘটনা যে জল থেকেই হয়েছিল, তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি এখনও পর্যন্ত। মনে করা হচ্ছে, এমন ঘটনা এড়াতেই এই নির্দেশিকা প্রকাশ। পড়ুয়াদের যাতে পানীয় জলের কারণে কোনও অসুস্থতা না হয়, সেই দিকেও নজর দিতে চাইছে প্রশাসন।