উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পড়ান তাঁরা। কেউ পদার্থবিদ্যা, কেউ ইতিহাস। স্কুলের পরিচালন সমিতি তাঁদের নিয়োগপত্র দিয়েছে। কিন্তু মাসে তাঁদের বেতন কারও দু’হাজার, কারও তিন হাজার।
শিক্ষকদের দাবি, ২০২৬ সালে এই বেতনে জীবন চালানো অসম্ভব। অন্তত বেঁচে থাকার জন্য যেটুকু প্রয়োজন, সরকার তাঁদের ততটুকু সহযোগিতা করুক। সোমবার দুপুর থেকে বিকাশ ভবনের সামনে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের অনুমোদিত স্কুলের পরিচালন সমিতির দ্বারা নিযুক্ত উচ্চমাধ্যমিকের আংশিক সময়ের শিক্ষকেরা।
৬০ বছর পর্যন্ত চাকরির নিশ্চয়তা এবং সরকার যেন কিছুটা হলেও তাঁদের আর্থিক দায় গ্রহণ করে এই দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন আংশিক সময়ের শিক্ষকেরা। সরকারের তরফে সদর্থক আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে দাবি করছেন শিক্ষকেরা। আন্দোলনকারী এক শিক্ষক অনিমেষ মাইতি জানান, বাম আমল থেকে স্কুলের পরিচালন সমিতির মাধ্যমে তাঁরা নিযুক্ত হয়েছেন। একই ভাবে বিগত সরকারের আমলেও রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক ঘাটতি মেটাতে এই সব শিক্ষকদের নিয়োগ করা হয়। তিনি জানান, বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইন্টারভিউ করে স্কুলের পরিচালন সমিতির তাঁদের নিয়োগপত্র দেন। তার পর সেই নথি যাচাই করেন স্থানীয় ডিআই এবং পরে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের তরফে কোন বিষয় তিনি পড়াতে পারবেন তার অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু বেতন হয় স্কুলের নিজস্ব তহবিল থেকে।
স্কুলের আর্থিক ক্ষমতার উপরে নির্ভর করে তাঁদের বেতন স্থির হয়। কোনও স্কুল তাঁদের এক হাজার টাকা, কোনও স্কুলে তিন হাজার টাকা মাসিক বেতন দিয়ে থাকে। কিন্তু এ ভাবে বছরের পর বছর চলায় তাঁরা হতাশ। শিক্ষকদের দাবি, সম্পূর্ণ না হলেও সরকার যেন তাঁদের আর্থিক কিছুটা দায়িত্ব নেয়। পাশাপাশি ৬০ বছর পর্যন্ত চাকরির সুনিশ্চিত করার দাবিও তোলা হচ্ছে।
অনিমেষ জানান, গত মাসেও তাঁরা স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। কিন্তু সে বার দেখা হয়নি। সোমবার ফের তাঁদের জানানো হয়েছে, আগামী ৫ নভেম্বর মন্ত্রী দেখা করবেন। শিক্ষকদের দাবি, ৫ নভেম্বর মন্ত্রীকে নিজেদের দাবির কথা জানানো এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিকাশ ভবনের সামনেই অবস্থানে থাকবেন।
অন্য দিকে ২০২২ সালে প্রাথমিকের টেট পাশ করা শিক্ষকপদ প্রার্থীরাও বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান শুরু করেছেন। তাঁদের সংগঠনের তরফে বিদেশ গাজি জানান, ২০২২ সালে টেট উত্তীর্ণ হয়েছিলেন তাঁরা। তার পর বহু আন্দোলনের চাপে ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। কিন্তু এক বছর পরও সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। চলতি মাস থেকে ইন্টারভিউ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু তাঁদের দাবি সেই সময়ে শূন্যপদ ছিল ১৩ হাজার ৪২১। তার পরে আরও প্রায় ৪৪৩১টি শূন্যপদ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, আগামী ইন্টারভিউতে পুরনো শূন্যপদের সঙ্গে নতুন শূন্যপদকেও যুক্ত করতে হবে।