নম্বর যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়া হোক আর একবার, সুপ্রিম কোর্টে এমনই আর্জি জানিয়েছিল পড়ুয়ারা। কিন্তু সে আর্জি নাকচ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
সিবিএসই-র তরফে অন-স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) ব্যবস্থার আওতায় পরীক্ষার ফলপ্রকাশের পর নির্দিষ্ট সময়ে সব পড়ুয়ার জন্য নম্বর যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দিতে পারেনি অনেকেই। তাই আর একবার উইন্ডো খোলার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল পড়ুয়ারা। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এই পর্যায়ে উইন্ডো খুললে গোটা পরীক্ষা ও ভর্তি প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত প্রশ্ন করেন, বহু পড়ুয়াই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করেছিল। বাকিরা কেন করতে পারেনি? প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “আপনারা বাসে ওঠেননি, বাস ছেড়ে গিয়েছে।”
কেন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ পড়ুয়ারা?
সিবিএসই-র অন-স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিয়ে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার (পিআইএল) সূত্রেই পড়ুয়ারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। কয়েকজন পড়ুয়ার দাবি, সিবিএসই-র ফলপ্রকাশের পর দেখা যায় কোনও কোনও পাঠ্যক্রমের প্রবেশিকায় উত্তীর্ণ হলেও ভর্তির প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করতে পারছেন না। তাই সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানান, যাতে নম্বর সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর উইন্ডো ফের খোলা হয় এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে না-পারা পড়ুয়ারাও তাঁদের উত্তরপত্র যাচাইয়ের সুযোগ পান।
সিবিএসই ও কেন্দ্রের বক্তব্য
কেন্দ্রের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, প্রায় ১.৬৮ লক্ষ পড়ুয়া ইতিমধ্যেই সিবিএসই-র অভিযোগ জানানোর উইন্ডোর মাধ্যমে আবেদন করেছেন এবং তাঁদের উত্তরপত্র যাচাই করা হয়েছে। মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। পড়ুয়াদের অভিযোগ জানানোর জন্য এক সপ্তাহ সময়ও দেওয়া হয়েছিল। তাই কেন্দ্রের যুক্তি যে, এই পর্যায়ে উইন্ডো ফের খোলা হলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারণ সিবিএসই-র নম্বর বিভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষা এবং কলেজে ভর্তির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে এই পরীক্ষা ও ভর্তি প্রক্রিয়াকে অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা সম্ভব নয়।
পাশাপাশি নয়াদিল্লিতে সোমবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী সিবিএসই-র শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পর্ষদের শিক্ষা, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কাজ পর্যালোচনা করেন। বৈঠকে বোর্ড পরীক্ষার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও দক্ষ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পরীক্ষা ও উত্তরপত্র মূল্যায়নে প্রযুক্তির ব্যবহার ঠিকভাবে হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও নজর রাখতে। এ ছাড়াও শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্কুলগুলিকে আরও ভালো পরিষেবা দেওয়ার এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের ওপর জোড় দেওয়ার প্রস্তাব দেন।