অভিনেতা হিসাবে তিনি জনপ্রিয়। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাতেও জায়গা তৈরি করছেন। তবে তাঁর এই সাফল্যের পথ যে একেবারেই মসৃণ ছিল না, তা জানালেন অভিনেতা নিজেই। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ছোটবেলার কথা মন খুলে বললেন আর মাধবন। সেই সময়ে তাঁর প্রতিবেশীদের অনেকেই মনে করতেন, মাধবন এবং তাঁর বোন জীবনে বিশেষ কিছু করতে পারবেন না।
মাধবনের বাবা রঙ্গনাথন একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। মা সরোজা ছিলেন ব্যাঙ্ককর্মী। ফলে দুই সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারতেন না তাঁরা। মাধবন জানালেন, তাঁদের আশপাশের পরিচিতদের অনেকের কারণেই তাঁর বাবা-মা নিয়মিত অপরাধবোধে ভুগতেন। সেই পড়শিদের বদ্ধ ধারণা ছিল, বাবা-মা দু’জনেই চাকরি করায় দুই সন্তান মাধবন ও তাঁর বোন অবহেলিত হচ্ছে।
মাধবনের জন্ম জামশেদপুরে। সেই সময়ে ইঞ্জিনিয়ার বা ডাক্তার হওয়াকেই জীবনের সাফল্যের মাপকাঠি বলে মনে করা হত। কিন্তু পড়াশোনায় বিশেষ ভাল ছিলেন না তিনি। এমনকি, কোনওরকমে পাশের নম্বর পেয়েছিলেন বলেও জানান অভিনেতা।
আরও পড়ুন:
সাক্ষাৎকারে মাধবন বলেন যে, বাবা-মা দু’জনেই কাজে ব্যস্ত থাকায় তাঁর পড়াশোনা দেখার মতো কেউ থাকতেন না। তিনি এবং তাঁর বোন দিনের বেশির ভাগ সময় মাঠে খেলেই কাটাতেন। আর তা দেখেই প্রতিবেশীদের ধারণা হয়েছিল, তাঁদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
মাধবনের কথায়, “সবাই ভাবত, আমরা দু’জনে জীবনে কিছুই করতে পারব না।” তাঁর বাবা-মাকেও প্রায়ই এই বিষয়ে কথা শুনতে হত, এমনও জানিয়েছেন তিনি।
কিন্তু প্রতিবেশীদের কথায় কান দেননি মাধবনের বাবা-মা। বরং মাধবন মনে করেন, বাবা-মা দু’জনেই উপার্জন করতেন বলেই তিনি বিদেশ যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে গিয়ে পড়াশোনা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও পেয়েছিলেন। সেই সুযোগগুলিই পরবর্তী জীবনে তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
তাই বাবা-মায়ের চাকরি করা নিয়ে তাঁর কোনও আক্ষেপ নেই বলে জানান মাধবন। বরং বাবা-মা যে ভাবে নিজেদের পথ বেছে নিয়েছিলেন, সেটাকেই তাঁর কাছে আদর্শ উদাহরণ বলে মনে হয়।