আলোচনায় রশ্মিকা মন্দানা। ‘কফি উইথ কর্ণ’-য় বিজয় দেবরকোন্ডা ও তাঁর সাক্ষাৎকার থেকেই শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। দক্ষিণ ভারত থেকে মায়ানগরী—সর্বত্র এখন রশ্মিকার চাহিদা। কন্নড় ছবির মাধ্যমে অভিনয়জগতে যাত্রা শুরু করেন। তবে ২০২১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পুষ্পা দ্য রাইজ়’ ছবির মাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয়তা পান নায়িকা। ‘পুষ্পা’র বিপুল সাফল্যের পর জনপ্রিয়তার পাশাপাশি রশ্মিকার পারিশ্রমিকও অনেক বেড়েছে। হাসিমুখ, প্রাণবন্ত উপস্থিতি আর অভিনয়ের সহজাত দক্ষতা—এই তিনের মিশেলে অল্প সময়েই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন রশ্মিকা। তবে সাফল্যের এই যাত্রাপথ খুব সহজ ছিল না।
রশ্মিকার ছোটবেলায় তাঁর পরিবারকে আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। একসময়ে বাড়ি খুঁজে পাওয়া থেকে শুরু করে বাড়িভাড়া মেটানো—সবকিছু নিয়েই সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাঁদের। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, খেলনা কেনাও কঠিন ছিল তাঁর পরিবারের জন্য। এক সাক্ষাৎকারে নিজের শৈশবের কঠিন দিনগুলির কথা জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, ছোটবেলায় পরিবারের আর্থিক টানাপড়েন খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে উপার্জনের মূল্য বুঝতে শিখিয়েছে। সাফল্য কিংবা জনপ্রিয়তা, কোনও কিছুকেই তাই হালকা ভাবে নিতে চান না রশ্মিকা।
কলেজের একটি প্রতিযোগিতাই রশ্মিকার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নজরে আসেন পরিচালকদের। এর পরেই কন্নড় ছবি ‘কিরিক পার্টি’তে অভিনয়ের সুযোগ পান। ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি বাণিজ্যিক সাফল্য পায়। প্রথম ছবিতেই দর্শকের নজর কাড়েন রশ্মিকা। অভিনয়জীবনের শুরুতেই স্বীকৃতি পেয়ে তাঁর সামনে খুলে যায় নতুন সম্ভাবনার দরজা। কন্নড় ছবিতে আত্মপ্রকাশের পর তেলুগু ছবিতেও অভিনয় শুরু করেন তিনি।
‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’ ছবিতে অল্লু অর্জুনের বিপরীতে শ্রীভল্লী চরিত্রে অভিনয় করে দেশ জুড়ে জনপ্রিয়তা পান রশ্মিকা। ছবির গান ও সংলাপের পাশাপাশি তাঁর অভিনয়ও দর্শকের আলোচনায় উঠে আসে। দক্ষিণী ছবির খ্যাতি, অর্থ এবং অনুরাগীদের ভালবাসা—সবই এখন রশ্মিকার জীবনের অংশ। কিন্তু ছোটবেলার অভিজ্ঞতা তাঁকে বার বার মনে করিয়ে দেয়, জীবনের পরিস্থিতি যে কোনও সময়ে বদলে যেতে পারে। তাই উপার্জন করা অর্থের পাশাপাশি কাজের স্বীকৃতি ও দর্শকের ভালবাসাকেও সমান গুরুত্ব দেন তিনি।
আরও পড়ুন:
চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে বিয়ে করেছেন রশ্মিকা ও বিজয়। সম্প্রতি, কর্ণের অনুষ্ঠানের কিছু অংশ নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর একপ্রকার দু’ভাগে বিভক্ত হয়েছেন নেটাগরিকেরা। একটি অংশের দাবি, রশ্মিকা খুবই ভালবাসেন বিজয়কে। কিন্তু বিজয় শুধু নিজেকেই ভালবাসেন। আবার অনেকে মনে করছেন, রশ্মিকা প্রেমে অন্ধ হয়ে গিয়েছেন। অবিলম্বে এই সম্পর্ক থেকে তাঁর বেরিয়ে আসা উচিত। এ সবের মধ্যে অবশেষে নিজের মতামত স্পষ্ট করেছেন তেলুগু অভিনেত্রী। নিজের মত জানিয়েছেন বিজয়ও।