প্রথম দিকে একে অপরের সঙ্গে বিশেষ কথাই বলতেন না তাঁরা। সম্পর্ক ছিল সহ-অভিনেতাদের মতো। অথচ সেই দূরত্ব ঘোচাতেই এক দিন করীনা কপূরকে বাইকে চড়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন সইফ অলী খান। কিন্তু সেই বাইক সফরের অভিজ্ঞতা যে সাংঘাতিক হয়ে উঠবে, তা ভাবেননি অভিনেতা। অমিতাভ বচ্চনের ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১৮’-র মঞ্চে এসে পুরনো দিনের সেই মজার ঘটনা ফাঁস করেছিলেন সইফ।
ছবির প্রচারে অমিতাভের অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন ছবির অভিনেতা। সেখানেই উঠে আসে সইফের বাইকে করে করীনাকে নিয়ে ঘোরার কথা। অভিনেতার কথায়, “শুরুর দিকে করীনা আর আমার মধ্যে বিশেষ কথা হত না। আমরা একে অপরের সঙ্গে শুধু ভদ্রতা বজায় রেখে চলতাম। তখন এক জন আমাকে বলেছিলেন, করীনাকে বাইকে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছ না কেন? ও নাকি মোটরবাইক খুব ভালবাসে!”
সইফ জানান, তিনি শুটিংয়ে যাওয়ার জন্য একটি বাইক ভাড়া করেছিলেন। এক দিন সেই পরিচিত ব্যক্তির পরামর্শেই করীনাকে বাইকে ঘোরার প্রস্তাব দেন। করীনাও সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যান। এর পরের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে সইফ বলেন, “আমি করীনাকে জিজ্ঞাসা করলাম, বাইকে ঘুরতে যাবে? ও বলল, ‘নিশ্চয়ই! আমি বাইক খুব ভালবাসি।’ তার পরে ওকে নিয়ে একটু ঘুরতে বেরোলাম। কিন্তু প্রতি দু’সেকেন্ড অন্তর ও আমার পিঠে নখ বসিয়ে দিচ্ছিল আর বলছিল, ‘থামো, থামো, থামো!’”
এর পর সইফ আরও বলেন, “আমি একটু থেমে আবার বাইক চালাতে শুরু করলাম। ও বলছে, ‘থামো, এত জোরে চালিয়ো না!’ শেষ পর্যন্ত বলল, ‘না, আমার বাইকে চড়তে একেবারেই ভাল লাগে না।’ আমি তখন বললাম, ‘তা হলে এই বাইকে উঠলে কেন?’ তখনই মনে হল, ব্যাপারটা হয়তো অন্য কিছু। আমার মনে হল, আমরা একে অপরকে পছন্দ করতাম ঠিকই। সেই জন্যই করীনা রাজি হয়েছিল। কিন্তু করীনার বাইক মোটেই পছন্দ ছিল না!”
সইফের মুখে এই মজার কাহিনি শুনে হাসির রোল ওঠে অনুষ্ঠানের মঞ্চে। অমিতাভও হেসে ওঠেন। ২০১২ সালের ১৬ অক্টোবর বিয়ে করেন সইফ ও করীনা।