সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এসে সঞ্জয় দত্ত মন্তব্য করেছেন, “ভারতে আর শান্তি খুঁজে পাই না”। এই কথার পরে সমাজমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন অভিনেতা। তাঁর মন্তব্য ঘিরে নেটপাড়ায় শুরু বিতর্ক। অনেকেই অভিনেতার বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ বার নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন সঞ্জয়।
সাক্ষাৎকারে তাঁকে বলা হয়, এক দিনের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে দেশবাসীর উদ্দেশে কী বার্তা দেবেন। তখন নিজের জনপ্রিয় ‘মুন্নাভাই’ চরিত্রের ভঙ্গিতে সঞ্জয় জানান, ভারতীয়দের উষ্ণতা, আতিথেয়তা এবং ভালবাসা তাঁর কাছে অমূল্য। তবে তিনি এ-ও বলেন, পরিস্থিতি বদলেছে, ফলে এই দেশে আর আগের মতো শান্তি খুঁজে পাচ্ছেন না। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা।
এর পর সমাজমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়ে সঞ্জয় স্পষ্ট করেন, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কোনও ব্যক্তি, সম্প্রদায়, প্রতিষ্ঠান কিংবা কারও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। অভিনেতা লেখেন, “কোনও ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা প্রতিষ্ঠানের ভাবাবেগে আঘাত করা, কাউকে অপমান করা বা অসম্মান করা কখনওই আমার উদ্দেশ্য ছিল না।”
নিজের মন্তব্যের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে সঞ্জয় জানান, কথোপকথনটি আগে থেকেই চিত্রনাট্য হিসাবে তৈরি করা ছিল এবং সেটিকে হালকা মেজাজে, রসিকতার ছলে উপস্থাপন করাই উদ্দেশ্য ছিল। নিজের জনপ্রিয় ‘মুন্নাভাই’ ছবিগুলির হাস্যরস ও ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনার সঙ্গেও বিষয়টির তুলনা করেন তিনি। বিশেষ করে ছবিতে দেখানো ‘গাঁধীগিরি’র প্রসঙ্গ টেনে সঞ্জয় বলেন, এর মূল ভাবনাই হল ভালবাসা, উষ্ণতা, একসঙ্গে থাকা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য।
আরও পড়ুন:
অভিনেতার কথায়, “আমার মন্তব্য একটি ‘স্ক্রিপ্টেড’ কথোপকথনের প্রেক্ষিতে করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল হালকা মেজাজ ও হাস্যরস তৈরি করা।” তাঁর বক্তব্যের মূল প্রেক্ষাপট বাদ পড়ায় কথাগুলি অন্য ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কাজের ক্ষেত্রে, সঞ্জয়কে আগামী দিনে দেখা যাবে ‘খলনায়ক রিটার্নস’-এ। এটি তাঁর ১৯৯৩ সালের ব্লকবাস্টার ‘খলনায়ক’-এর সিক্যুয়েল।