দীপাবলির উৎসব যত এগিয়ে আসছে, ততই বায়ুদূষণ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। উৎসবের আনন্দে বাজি পোড়ানোর বদলে পরিবেশবান্ধব দীপাবলি পালনের কথা বলছেন একাধিক তারকা। সম্প্রতি অভিনেত্রী দীয়া মির্জ়ার মাধ্যমে এমনই একটি সচেতনতামূলক ভিডিয়োবার্তা প্রকাশ করেছিল বৃহন্মুম্বই পুরসভা (বিএমসি)। কিন্তু পরে সেই ভিডিয়ো সরিয়ে নেওয়া হয়। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয় বিতর্ক। এ বার বাজি পোড়ানোর বিরোধিতা করলেন আলিয়া ভট্টের মা অভিনেত্রী সোনী রাজ়দান।
বুধবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট ভাগ করে নেন সোনী। সেখানে দীপাবলিতে বাজি পোড়ানোর ক্ষতিকর দিকগুলি তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যের উপর বায়ুদূষণের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। সোনীর কথায়, “যে কোনও ছোট শিশুর বাবা-মাকে জিজ্ঞাসা করলেই জানতে পারবেন, বায়ুদূষণের কারণে তাদের সন্তানেরা কতটা ভুগছে। অসুস্থতার জন্য কত দিন স্কুলে যেতে পারছে না তারা।” এর পরেই বাজি পোড়ানোর পক্ষে যাঁরা যুক্তি দিচ্ছেন, তাঁদের নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সোনী।
আলিয়ার মা এ-ও লেখেন, পরিবেশকে গুরুত্ব না দিয়ে যাঁরা বাজি পোড়ানোকে সমর্থন করছেন, তাঁরাই আসলে দেশদ্রোহী। তিনি লেখেন, “এমন পরিস্থিতিতেও যদি কেউ বলেন, এ বছর দীপাবলিতে অন্তত একটি বাজি পোড়ানো উচিত, তা হলে তাঁকেই আমি জীবনবিরোধী, স্বাস্থ্যবিরোধী এবং দেশবিরোধীও বলব।”
তাঁর মতে, নিজের এবং সন্তানের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে। তাই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।
দীয়ার ভিডিয়ো ঘিরে বিতর্কের কয়েক দিন পরেই সোনী এই মন্তব্য করেছেন। মুম্বইয়ের বাসিন্দাদের উদ্দেশে ভিডিয়োয় দীয়া বলেছিলেন, “উৎসবের মরসুমে আনন্দের সঙ্গে দীপাবলি পালন করতে হবে ঠিকই, তবে পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যের কথাও মাথায় রাখতে হবে। বাজি থেকে তৈরি হওয়া শব্দ ও বায়ুদূষণ আমাদের সকলের জন্য ক্ষতিকর। তাই শব্দ নয়, আনন্দ দিয়ে দীপাবলি উদ্যাপন করুন।” কিন্তু সেই ভিডিয়ো মুছে দেয় বৃহন্মুম্বই পুরসভা। ভিডিয়োটি নিয়ে আপত্তি তোলে বিজেপিও। ভিডিয়োটি সরিয়ে দেওয়া হয়। পরের দিনই এই ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বম্বে হাই কোর্ট। মুম্বইয়ের মেয়র রিতু তাওড়ে এবং বিজেপির সভাপতি অমিত সাটমের আপত্তির পরে ভিডিয়োটি সরিয়ে দেওয়ায় আদালত জানিয়েছে, তারা গোটা ঘটনায় অত্যন্ত ‘বিচলিত’। আদালতের পরামর্শ, মানুষের সংবিধানের প্রতি আস্থা ফেরাতে ভিডিয়োটি আবার প্রকাশ করতে হবে পুরসভাকে।