শনি ও রবিবার টলিপাড়ায় শুটিং বন্ধ। এই দু’দিন বাংলা সিনেপাড়ায় নির্বাচন। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বদলেছে একাধিক সমীকরণ। বদল আসতে শুরু করেছে টলিউডেও। স্বরূপ বিশ্বাসের ‘আধিপত্য’ শেষ হওয়ার পরে ফেডারেশনের প্রথম ভোট টলিপাড়ায়। ফেডারেশনের আওতাধীন মোট ২৬ গিল্ডের নির্বাচন সম্পন্ন হচ্ছে। স্বরূপের পর ফেডারেশনের নতুন সভাপতি কে হবেন, সে দিকেই সকলের নজর। শোনা যাচ্ছে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যাঁরা জয়ী হবেন, সেই জয়ী প্রার্থীদের শংসাপত্র দেওয়া হবে এই দু’দিনেই।
শনিবার সকাল ১০টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। টেকনিশিয়ান ও এনটি ওয়ান স্টুডিয়োর বাইরে সব কিছু নিজে ঘুরে দেখেন মিঠুন চক্রবর্তী। ভোটপ্রক্রিয়া সঠিক ভাবে হচ্ছে কি না, খতিয়ে দেখলেন। সঙ্গে ছিলেন রুদ্রনীল ঘোষও।
এ বছর নির্বাচনে রয়েছে কড়াকড়ি। ভোটার, প্রার্থী, কমিশনার ছাড়া কাউকে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের (স্টুডিয়ো) ভিতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ও সিসিটিভি বাধ্যতামূলক হয়েছে এ বার।
পরিদর্শনে এসে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, “ভোটার ছাড়া কেউ ভিতরে ঢুকতে পারবেন না। এই নিয়মটা আমিই তৈরি করেছি। এ জন্য আমি নিজেও বাইরে বসে আছি। আগে ‘ইলেকশন’ নয়, ‘সিলেকশন’ হত। এ বার সকলে সুস্থ ভাবে ভোট দিচ্ছেন। আমি এটাই চেয়েছিলাম। ফেডারেশনও তৈরি হলে সুস্থ ভাবে চলবে। কাউকে কাজ করতে দেব না— ও সব এখানে আর চলবে না! আর কেউ এমন করলে, সেটা আমার কানে এলেই আমি দেখে নেব।” তিনি যোগ করেন, “আমি ৩০ বছর বম্বেতে মজদুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলাম। আমি সে ভাবেই নতুন করে সাজাতে চাই। কার কী দুঃখ, সমস্যা আছে, সব মেটাতে চাই।”
টলিউডের ‘ব্যান কালচার’ প্রসঙ্গে মিঠুন বলেন, “এগুলো সব বন্ধ হয়ে যাবে। গণতন্ত্রে কারও কাজ বন্ধ করা যায় না। যে যার সঙ্গে পারবে কাজ করবে।” তিনি আরও যোগ করেন, কেউ যদি কোনও গন্ডগোল করে, তা হলে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, কাজের বাইরেও আরও বেশ কিছু কারণে আলোচনায় থাকে টলিউড। ফেডারেশন বনাম ছোটপর্দার প্রযোজকদের দ্বন্দ্ব, টেকনিশিয়ানদের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ, বকেয়া পারিশ্রমিক, কলাকুশলীদের অতিরিক্ত সময় কাজ করানো থেকে ‘থ্রেট’ বা ‘ব্যান কালচার’ ইত্যাদি নানা সমস্যা নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে বার বার উত্তপ্ত হয়েছে টলিপাড়া।