বলিউডে পাকাপাকি জায়গা তৈরি করেছেন রাঘব জুয়াল। ‘কিল’ ও ‘ব্যাড্স অফ বলিউড’, তাঁর দু’টি কাজই সফল। শাহরুখ খানের ‘কিং’ ছবিতেও দেখা যাবে তাঁকে। আরিয়ান খানের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব। কিন্তু রাঘবের জন্মদিনের পার্টিতে এসে চিঁড়েচ্যাপ্টা অবস্থা হয়েছিল শাহরুখ-পুত্রের। মানুষের ঢল ঘিরে ধরেছিল তাঁকে। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে মুখ খুলল বলিউডের এক সূত্র।
১০ জুলাই নিজের জন্মদিনে বড়সড় পার্টির আয়োজন করেছিলেন রাঘব। নিমন্ত্রণ গিয়েছিল তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু তথা পরিচালক আরিয়ান খান এবং অভিনেতা ববি দেওল-সহ আরও কয়েক জনের কাছে। বান্দ্রার একটি অভিজাত রেস্তরাঁয় নৈশভোজের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সবই ঠিকঠাক চললেও শেষ মুহূর্তে সমস্যা শুরু হয়।
শোনা যাচ্ছে, এক প্রভাবশালী রাজনীতিক তথা সমাজকর্মীর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে রাঘবের কাছে একটি প্রস্তাব আসে। সেই রাজনীতিক জানান, তাঁদের দু’জনের জন্মদিন একই দিনে। তাই একসঙ্গেই পার্টির আয়োজন করা হোক। রাঘবও সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। কিন্তু পরে সেখান থেকেই সমস্যার শুরু হয়। দু’জনের জন্মদিনের অতিথিদের জন্য দু’রকম নিমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছিল। আর সেখান থেকেই তৈরি হয় একের পর এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।
রাঘবের অতিথি যাঁরা ছিলেন, তাঁদের অধিকাংশই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুবই সচেতন। তাঁরা চুপচাপ ওই পার্টিতে ঢুকতে চাইছিলেন। কিন্তু অন্য দিকের অনেক অতিথিই নিজস্বী তোলার জন্য প্রবল উৎসাহী হয়ে উঠেছিলেন। পার্টি শুরু হতেই আরিয়ান ও ববির মতো তারকাদের ঘিরে ভিড় জমে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
আরও পড়ুন:
তারকা-অতিথিদের এক ঝলক দেখার আশায় রাজনীতিকের অতিথিরাও রাঘবের পার্টিতে ঢুকে পড়তে থাকেন। কেউ কেউ জোর করেই পার্টির ভিতরে ঢুকে পড়েন, শুরু হয় নিজস্বীর আবদার। কিছু ক্ষণের মধ্যেই নাকি দমবন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতির জন্য তারকারা মোটেই প্রস্তুত ছিলেন না। অবস্থা এমন হয় যে, একে একে সব তারকাই পার্টি ছেড়ে বেরিয়ে যেতে শুরু করেন। তাঁদের নিরাপত্তারক্ষীদেরও ভিড় সামলাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। ঘনিষ্ঠ সূত্রের মতে, এক তারকা-অতিথি নাকি পরে বলেন, “এমন কিছুর জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। রাঘব খুব ভাল ছেলে, ওর সঙ্গে সময় কাটাতে সাধারণত ভালই লাগে। কিন্তু এই পার্টিতে কোনও আনন্দই ছিল না।”
আরিয়ান খানকেও নিজের গাড়ির দিকে দ্রুত ছুটে যেতে দেখা যায়। তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেন নিরাপদে তাঁকে গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিতে। নিজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া সত্ত্বেও আরিয়ান নাকি খেয়াল রাখছিলেন, যাতে ভিড়ের চাপে অন্য কেউ আহত না হন। ঘটনা নিয়ে এখনও মুখ খোলেননি রাঘব। তাঁকেও বিভিন্ন ভিডিয়োয় অস্বস্তিতে পড়তে দেখা গিয়েছিল।