নদীর মোহনায় পলি, বালি ও কাদা জমে বাংলার মাত্রাহীন ‘ব’-এর মতো আকৃতির ত্রিকোণাকার নতুন ভূখণ্ড হল ব-দ্বীপ। না, বাংলা ভাষা নিয়ে লিখতে গিয়ে ভূগোলের পাঠ পড়ানো হচ্ছে, এমনটা কিন্তু নয়। বরং ভাষার জাদু লুকিয়ে এই ভৌগোলিক শব্দটির মধ্যেও। বাংলা ভাষায় দু’টি ‘ব’-এর ব্যবহার রয়েছে। একটি হল প ফ ‘ব’ ভ ম– এই জায়গায়, এবং অন্যটির অবস্থান ‘য র ল’-এর পরে। প্রথম ‘ব’-কে চেনা যায় বর্গীয় ‘ব’ হিসেবে, আর দ্বিতীয় ‘ব’-এর নাম ‘অন্তঃস্থ ব’। ভাষাবিদরা এখনকার বাংলা বর্ণমালায় যে ৫০টা বর্ণ রেখেছেন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সাজানো বর্ণমালায় দু’টি বর্ণ বেশি ছিল। বলা ভাল, আধুনিক বাংলা বর্ণমালা থেকে দু’টি বর্ণ বাদ দিয়েছেন এখনকার ভাষাবিদরা।
স্বরবর্ণ ‘৯’ (উচ্চারণ ‘লি’) আর ব্যঞ্জনবর্ণ ‘অন্তঃস্থ ব’ এখন আর বর্ণমালায় রাখতে চান না নাকি তাঁরা। ‘৯’ না রাখার কারণ, এই বর্ণের যা মূল উচ্চারণ, তা সাম্প্রতিক কোনও নিয়মিত বাংলা শব্দে নেই। মুখেও আর সেই নিখুঁত উচ্চারণ করা যায় না বললেই চলে। ফলে ‘৯’ হয়ে গিয়েছে বাতিল বর্ণ, যার ব্যবহার বর্তমান সময়ে আর নেই।
তবে ‘অন্তঃস্থ ব’ বাতিলের খাতায় না থাকলেও তাকে নিয়ে সমস্যাও কম নয়! ‘বর্গীয় ব’ আর ‘অন্তঃস্থ ব’ অনেক সময়েই উচ্চারণে গোল পাকিয়ে দেয়। যেমন, বিদ্যা, বোয়াল, বস্ত্র, বাঁকা – এই চারটে শব্দ একই ‘বর্গীয় ব’ দিয়ে শুরু হচ্ছে মনে হলেও, আসলে ‘বিদ্যা’ (মূল সংস্কৃতে vidya) আর বস্ত্র (মূল সংস্কৃতে vastra) ‘অন্তঃস্থ ব’ দিয়ে শুরু! শব্দের শুরুতে থাকা ‘অন্তঃস্থ ব’-এর উচ্চারণ বাংলায় ‘বর্গীয় ব’-এর মতো হয়ে গিয়েছে।
তবে, এই ‘অন্তঃস্থ-ব’ যদি যুক্তাক্ষর হিসেবে শব্দের শুরুতে থাকে, তাহলে তার উচ্চারণ হয় না, যেমন – স্বপ্ন, ত্বক, স্বাধীন ইত্যাদি। এই শব্দগুলি উচ্চারিত হয় ‘শপ্নো’, ‘তক্’, ‘শাধীন’ হিসেবে। আবার, শব্দের মাঝে বা শেষে ‘অন্তঃস্থ ব’ থাকলে এটা যে বর্ণের সঙ্গে থাকে, সেই বর্ণ দু’বার উচ্চারণ করা হয়। যেমন- বন্ধুত্ব। উচ্চারণ— ‘বোনধুত্তো’। বিশ্ব – ‘বিশশো’। অস্বাভাবিক – ‘অশ্শাভাবিক’, কিন্তু স্বাভাবিক – ‘শাভাবিক’।
মগজাস্ত্রের লড়াইয়ে সেরা স্কুলের খোঁজ করতে আবারও 'শব্দ-জব্দ' নিয়ে হাজির আনন্দবাজার ডট কম। আনন্দবাজার ডট কম আয়োজিত ‘শব্দ-জব্দ ২০২৬'-এর পার্টনাররাও এই সম্মান জ্ঞাপনের সঙ্গী। প্রতিযোগিতার প্রেজ়েন্টিং পার্টনার ‘ইস্টার্ন ইনস্টিটউট ফর ইন্টিগ্রেটেড লার্নিং ইন ম্যানেজমেন্ট’। পাওয়ার্ড বাই পার্টনার ‘রিলায়েন্স ট্রেন্ডস্’, ‘সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি’ এবং ‘এনএসএইচএম নলেজ ক্যাম্পাস, দুর্গাপুর’। ধন্যবাদ আমাদের অন্যান্য সহযোগীদেরও — ‘শব্দবাজি’ এবং ‘ডেলিফান’।