পাশাপাশি শব্দ বসালেও যেমন অর্থপূর্ণ বাক্য পাওয়া যায়, তেমনই অর্থপূর্ণ শব্দ অথবা কোনও বাক্য লুকিয়ে কবিতার প্রতিটি লাইনের আদ্যাক্ষরের উপর-নীচ সমষ্টিতেও! বিষয়টি বেশ মজাদার না? আসলে ইংরেজিতে কবিতা বা ধাঁধা লেখার একটি বিশেষ পদ্ধতি আছে, যার নাম ‘অ্যাক্রস্টিক’ (Acrostic)। এই পদ্ধতিতে লেখা কবিতা বা ধাঁধার প্রত্যেক লাইনের একদম প্রথম অক্ষরগুলি উপর-নীচে পরপর বসালে একটি অর্থপূর্ণ শব্দ অথবা বড়ো কোনও কবিতা হলে আস্ত একটি বাক্যও গঠিত হতে পারে। ইংরেজিতে একটি ছোট্ট উদাহরণ দিয়েই বিষয়টি বোঝা যাক।
Shining brightly in the night,
Twinkling with a silver light,
Always watching from afar,
Radiant, lovely little star.
প্রত্যেক লাইনের প্রথম অক্ষরগুলি উপর থেকে নীচে পরপর পড়লে ‘STAR’ পাওয়া যায়। আর এই ছোট্ট কবিতাটিও লেখা তারাদের নিয়েই। এই হল ‘অ্যাক্রস্টিক’। যদিও এর তেমন ভাল বাংলা নাম সম্ভবত নেই। এই ভাবে শব্দের প্রথম অক্ষর জুড়ে জুড়ে ‘অ্যাক্রোনিম’ (Acronym) নামের একটি বিষয় ইংরেজিতে রয়েছে, যাকে সহজ কথায় অনেকেই শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ বলে থাকেন, যেমন – ‘পিন কোড’-এর পুরো কথাটি হল ‘পোস্টাল ইন্ডেক্স নম্বর’। এর অর্থ ‘পিন’ শব্দটি এখানে একটি ‘অ্যাক্রোনিম’। এখানে যেমন তিনটে শব্দের প্রত্যেকটির প্রথম অক্ষরগুলি জুড়ে ‘পিন’ (PIN) হল, একে বাংলায় বলা হয় ‘মুণ্ডমাল শব্দ’। মুণ্ড মানে মাথা, আর শব্দের মাথা জুড়ে জুড়ে মালার মতো গঠিত শব্দ- মুণ্ডমাল। আরও একটি উদাহরণ দিতে গেলে আসে ‘ল সা গু’র কথা। যার অর্থ লঘিষ্ঠ সাধারণ গুণনীয়ক, এটিও কিন্তু একটি মুণ্ডমাল শব্দ।
‘অ্যাক্রস্টিক’-এর চেহারা দেখে একে হয়তো মুণ্ডমাল কবিতা বলা যেতে পারে। আর এখানেই আসে মাইকেল মধুসূদন দত্তের কথা, যিনি তাঁর এক বন্ধুর নাম ব্যবহার করে বাংলা ভাষার প্রথম ‘অ্যাক্রস্টিক’ কবিতাটি লিখেছিলেন, খানিক এই ভাবে-
গভীর গর্জন সদা করে জলধর,
উথলিল নদ নদী ধরণী উপর।
রমণী রমণ লয়ে, সুখে কেলি করে
দানবাদি দেব যক্ষ সুথিত অন্তরে।
সমীরণ ঘন ঘন ঝন ঝন রব,
বরুণ প্রলয় দেখি প্রবল প্রভাব ।
স্বাধীন হইয়া পাছে পরাধীন হয় ।
কলহ করয়ে কোন মতে শান্ত নয়।।
তাহলে বন্ধুর নাম?
-গৌর দাস বসাক।
মগজাস্ত্রের লড়াইয়ে সেরা স্কুলের খোঁজ করতে আবারও 'শব্দ-জব্দ' নিয়ে হাজির আনন্দবাজার ডট কম। আনন্দবাজার ডট কম আয়োজিত ‘শব্দ-জব্দ ২০২৬'-এর পার্টনাররাও এই সম্মান জ্ঞাপনের সঙ্গী। প্রতিযোগিতার প্রেজ়েন্টিং পার্টনার ‘ইস্টার্ন ইনস্টিটউট ফর ইন্টিগ্রেটেড লার্নিং ইন ম্যানেজমেন্ট’। পাওয়ার্ড বাই পার্টনার ‘রিলায়েন্স ট্রেন্ডস্’, ‘সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি’ এবং ‘এনএসএইচএম নলেজ ক্যাম্পাস, দুর্গাপুর’। ধন্যবাদ আমাদের অন্যান্য সহযোগীদেরও — ‘শব্দবাজি’ এবং ‘ডেলিফান’।