‘উচ্ছ্বলজলধিতরঙ্গ’- দেশের জাতীয় সঙ্গীতের সপ্তম লাইনেই রয়েছে এই শব্দ। এর বাইরে অন্য কোথাও এই শব্দটির ব্যবহার আদৌ কি চোখে পড়ে? জানেন কি, বাংলা ভাষার একটি বিশেষ দিক নিয়ে আলোচনা করতে হলে এই শব্দটির ব্যবহার কিন্তু করতেই হবে। জাতীয় সঙ্গীতে এই শব্দের ঠিক আগে দু’টি নদীর নাম উল্লেখ আছে – যমুনা ও গঙ্গা। আর এই দুই নদীর প্রবাহের মতোই গতিময়, বৈচিত্র্যময় আর অফুরন্ত এই মাতৃভাষা– বাংলা ভাষা। সেই কোন স্কুলবেলা থেকে শিখে আসা হয়েছে– ভাষা নদীর মতোই বহমান।
জলবিন্দু যেমন নদীর প্রাণ, বিন্দু বিন্দু জল উচ্ছ্বলজলধিতরঙ্গে ছুটে যায় সিন্ধুর দিকে; তেমনই ভাষা-নদীর প্রাণ, একই ভাবে ভাষার শব্দগুলিও ছুটে যায় এক বাঙালি থেকে আরেক বাঙালির কাছে। মাইকেল মধুসূদন দত্ত সেই কবে লিখেছিলেন,
‘হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন,—
তা সবে, অবোধ আমি, অবহেলা করি,…’
বঙ্গ-ভাষার ভাণ্ডারে বিবিধ যা যা রতন আছে, তা শুধু যে এ দেশের নানা অংশ থেকে এসেছে, তা কিন্তু নয়। অনেক বিদেশি ভাষার শব্দ বাংলা ভাষার জলধিতরঙ্গে এমনভাবে মিশে গিয়েছে যে তাদের আর অন্য নদীর জল বলে মনেই হয় না।
টিভিতে খবর তো নিত্যদিনের সঙ্গী, কিন্তু খেয়াল করে দেখেছেন কি, ‘টিভি’ একটি ইংরেজি শব্দ, কিন্তু আলাদা করে বলে না দিলে, হয়তো অনেক বাঙালিই ধরতে পারবেন না – খবর আসলে আরবি শব্দ ‘khbr’ থেকে এসেছে! যে ‘বারান্দায় রোদ্দুর, আমি আরামকেদারায় বসে…’ গানটি শ্রোতাদের মুখে মুখে ঘুরেছে এক সময়ে, তার ‘বারান্দা’ শব্দটির উৎপত্তি মূল পর্তুগিজ শব্দ ‘varanda’ থেকে। আবার ‘আরামকেদারা’ শব্দের ‘আরাম’ আসলে ফারসি (প্রাচীন পারস্য দেশের ভাষা) ভাষার শব্দ, আর ‘কেদারা’ শব্দের উৎস পর্তুগিজ শব্দ ‘cadeira’, পর্তুগিজ ভাষায় যা চেয়ার বা বসবার আসনকে বোঝায়। এই কয়েকটি মাত্র উদাহরণ থেকেই বোঝা যায়, ভাষা-নদীর জলধিতরঙ্গ কতই না বৈচিত্রে ভরা! নদীর এই গতি কত উচ্ছ্বল, যে অনায়াস ‘আরামে’ দুটি বিদেশি ভাষার শব্দ পাশাপাশি ‘বসে’ একটা নতুন বাংলা শব্দ তৈরি হয়ে গিয়েছে।
মগজাস্ত্রের লড়াইয়ে সেরা স্কুলের খোঁজ করতে আবারও 'শব্দ-জব্দ' নিয়ে হাজির আনন্দবাজার ডট কম। আনন্দবাজার ডট কম আয়োজিত ‘শব্দ-জব্দ ২০২৬'-এর পার্টনাররাও এই সম্মান জ্ঞাপনের সঙ্গী। প্রতিযোগিতার প্রেজ়েন্টিং পার্টনার ‘ইস্টার্ন ইনস্টিটউট ফর ইন্টিগ্রেটেড লার্নিং ইন ম্যানেজমেন্ট’। পাওয়ার্ড বাই পার্টনার ‘রিলায়েন্স ট্রেন্ডস্’, ‘সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি’ এবং ‘এনএসএইচএম নলেজ ক্যাম্পাস, দুর্গাপুর’। ধন্যবাদ আমাদের অন্যান্য সহযোগীদেরও — ‘শব্দবাজি’ এবং ‘ডেলিফান’।