১৯৩৬ সাল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে অনুরোধ রাখেন, বাংলা বানান নিয়ে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি করা দরকার। নানা বাংলা শব্দের বানান ঠিক কেমন হবে, সেই নিয়ে কাজ করা উচিত। এর পরেই তখনকার অবিভক্ত বাংলা মিলিয়ে প্রায় ১৫০-২০০ শিক্ষকের মতামত নেওয়া হয়, আর তার ভিত্তিতে ধীরে ধীরে শুরু হয় বাংলা বানান সংস্কারের কাজ, যা আজও এগিয়ে নিয়ে চলেছে নানান সংস্থা আর ভাষাবিদরা।
বাংলা বানান নিয়ে কাজ শুরু করার বছর তিনেক আগে, ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ১০ মে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বভারতী গ্রন্থালয় থেকে একসঙ্গে প্রকাশ করেন ‘সহজ পাঠ’-এর প্রথম আর দ্বিতীয় ভাগ। সহজ পাঠ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা সেরা প্রাইমার, তবে তার আগেও ছোটদের জন্য রবীন্দ্রনাথ নানা প্রাইমার লিখেছেন, এবং বাংলা ভাষা শেখানোর জন্য নানা উপায় নিয়েও ভেবেছেন তিনি। ধ্বনি আর বর্ণ চেনানোর সহজ পাঠে এ-কারের দুরকম ধ্বনি, বা উচ্চারণ আর ধ্বনি অনুযায়ী পড়ার সুবিধার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন এক পদ্ধতি তৈরি করেন, যা এক কথায় অভূতপূর্ব। যদিও সেই পদ্ধতি এখন আর ব্যবহার করা হয় না!
শব্দের শুরুতে ‘অ্যা’ ধ্বনি থাকলে কবিগুরু ব্যবহার করতেন মাত্রাওয়ালা এ-কার। যার দেখা মেলে শুধুমাত্র বিশ্বভারতীর ছাপা কোনও বইয়েই। যেমন ধরা যাক, ‘রাম ফুটবল খেলে’। এই বাক্যের ‘খেলে’র উচ্চারণ যে ‘খ্যালে’—এটা বোঝানোর জন্য তিনি ‘খ’-এর আগের এ-কারের মাথার বাঁদিকে মাত্রা দিতেন, যেটা ছাপাও হত সেই ভাবে। আর, ‘রাম ফুটবল খেলে খুব নাম করেছে’, এই বাক্যের ‘খেলে’র উচ্চারণ ‘খেলে’-ই থাকবে, তাই এ ক্ষেত্রে এ-কারের গায়ে কোনও মাত্রা দেওয়া হত না, ঠিক যেমন এখানে ছাপা আছে।
মগজাস্ত্রের লড়াইয়ে সেরা স্কুলের খোঁজ করতে আবারও 'শব্দ-জব্দ' নিয়ে হাজির আনন্দবাজার ডট কম। আনন্দবাজার ডট কম আয়োজিত ‘শব্দ-জব্দ ২০২৬'-এর পার্টনাররাও এই সম্মান জ্ঞাপনের সঙ্গী। প্রতিযোগিতার প্রেজ়েন্টিং পার্টনার ‘ইস্টার্ন ইনস্টিটউট ফর ইন্টিগ্রেটেড লার্নিং ইন ম্যানেজমেন্ট’। পাওয়ার্ড বাই পার্টনার ‘রিলায়েন্স ট্রেন্ডস্’, ‘সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি’ এবং ‘এনএসএইচএম নলেজ ক্যাম্পাস, দুর্গাপুর’। ধন্যবাদ আমাদের অন্যান্য সহযোগীদেরও — ‘শব্দবাজি’ এবং ‘ডেলিফান’।