মেট্রোয় দাঁড়ানো নিয়ে তুমুল ঝামেলা হয়ে গেল! অফিসে এসে বসে হয়তো ভাবছেন, এমন চিৎকার-চেঁচামেচি না করলেও চলত। কিংবা সন্তানের দুষ্টুমি সামলাতে না পেরে দু’ঘা বসিয়ে দিয়ে নিজেই এখন মরমে মরছেন!
পুরুষ হোক বা মহিলা— এমন পরিস্থিতি প্রায় সকলের রোজের জীবনের অঙ্গ। দৈনন্দিন ঘটনাপ্রবাহে রাগ হবে, মেজাজও গরম হবে স্বাভাবিক। কিন্তু কারও ক্ষেত্রে তা লাগামছাড়া হয়ে ওঠে। কখনও ঘর-বার সামলাতে গিয়ে মেজাজ এমন তিরিক্ষি হয়ে ওঠে যে অতি অল্পেই তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আবেগ বশে রাখতে পারা শুধু শিক্ষা নয়, তার জন্য দরকার হয় অভ্যাসের।
আরও পড়ুন:
যোগ প্রশিক্ষক সিদ্ধা অক্ষর এক সাক্ষাৎকারে বলছেন, নিয়ম করে ৫ কাজ করলে শরীর-মন সুস্থ এবং শান্ত রাখা সহজ হবে।
দিনের শুরুতে শান্ত হয়ে বসুন
দিনভর একাজ-সেকাজ করতে গিয়ে, নিজের জন্য সময় মেলে না। ঘুম ভাঙলেই এখন লোকের হাতে উঠে আসে মোবাইল। অভ্যাস বদলে ঘুম থেকে উঠে শিরদাঁড়া টান করে বসুন ( মেঝেতে আসনে বসাই ভাল)। চোখ বন্ধ করে শ্বাস নিন এবং ছাড়ুন। অনেক চিন্তা মাথায় আসবে এবং যাবে। তবে মন দিতে হবে শ্বাস-প্রশ্বাসে।
৫ মিনিট প্রাণায়াম
শান্ত হয়ে ৫ মিনিট বসার পরে শ্বাস নিন ধীরে, শ্বাস ছাড়ুন আরও বেশি সময় ধরে। শ্বাস নেওয়া এবং ছাড়ায় সম্পূর্ণ মন দিলে ধীরে ধীরে মন শান্ত হবে। ৫ মিনিট তা অভ্যাস করতে হবে।
প্রতিটি পদক্ষেপ উপভোগ করুন
হাঁটাহাটি, স্ট্রেচিং এবং প্রাণায়ামে শরীর-মন ভাল থাকে। ১০-১৫ মিনিট সময় রাখুন খোলা হাওয়ায় হাঁটার জন্য। সেই সময়ে কাজের চিন্তা না করে প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগ করুন, হাঁটার দিকটিতেও নজর দিতে পারেন।
কাজের ফাঁকে বিরতি
সাংসারিক কাজ হোক বা অফিস— নতুন কাজ শুরুর আগে ২-৩ মিনিট শান্ত হয়ে বসা জরুরি। এতে শরীরও বিশ্রাম পায়। নতুন কাজের জন্য মনও প্রস্তুত হয়। দীর্ঘ কাজের পর ক্লান্ত লাগলে একটু স্ট্রেচিং করলেও শরীর চাঙ্গা হতে পারে। অফিসে বা বাড়িতে যে কোনও জায়গাতেই সহজ কিছু স্ট্রেচিং করা যায়। এতে পেশির সংকোচন-প্রসারণ হয়, যা রক্তচলাচল ঠিক রাখে।
মন ভাল থাকে এমন কাজ
দিনের শেষে পরিবার, সন্তানের সান্নিধ্য, বন্ধুর সঙ্গ, গল্প-আড্ডা সাহায্য করে মানসিক চাপ কাটাতে। জীবনের অপ্রাপ্তি মনে জিইয়ে রেখে কষ্ট পাওয়ার চেয়ে, ছোট ছোট প্রাপ্তিগুলিকে উপভোগ করলেও আনন্দে থাকা যায়।