সমুদ্রসৈকত থাকবে, কিন্তু পুজোর সময়েও জনসমুদ্র থাকবে না। স্নান করতে পারবেন উষ্ণ প্রস্রবণে, রোপওয়ে চড়ে মন্দিরেও যেতে পারবেন, সবুজ পাহাড়ের কোলে বৌদ্ধ মঠে বসে দু’দণ্ড জিরিয়েও নিতে পারবেন। ভাবছেন এত কিছু দেখতে লম্বা সফর করতে হবে? মোটেও না। সবকিছুই একসঙ্গে মিলবে পড়শি রাজ্য ওড়িশায়। শুধু সড়কপথে সাজিয়ে ফেলতে হবে ভ্রমণসূচি। গোপালপুর থেকে একদিনেই ঘুরে নিতে পারবেন তারাতারিণী মন্দির, তপ্তপানি এবং জিরাং গুম্ফা।
বাঙালির প্রিয় সমুদ্রসৈকতের তালিকায় বরাবরই পুরীর নাম আসে। ওড়িশার এই সৈকতশহর বাঙালির যেন দ্বিতীয় ঘর। তবে ওড়িশারই গঞ্জাম জেলায় রয়েছে আর এক সোনালি বালুকাবেলা, যার নাম গোপালপুর। কলকাতা থেকে সড়কপথে দূরত্ব ৬১৪ কিলোমিটার। কোলাঘাট, জলেশ্বর, ভদ্রক, কটক, বালুগাঁও, রম্ভা, গঞ্জাম হয়ে পথ গিয়েছে। ব্রহ্মপুর থেকে সড়কপথে গোপালপুরের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। টানা গাড়ি চালালে সময় লাগবে ১২-১৩ ঘণ্টা। লম্বা পথ পাড়ি দিতে কষ্ট হলে ভুবনেশ্বর বা কটকে এক রাত থেকে নিতে পারেন। কটকে থাকলে অতি অবশ্যই দেখে নিন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নামাঙ্কিত মিউজ়িয়াম। এই শহরেই জন্ম তাঁর।
গোপালপুরের সমুদ্র সৈকত। ছবি:সংগৃহীত।
গোপালপুর প্রথম দর্শনেই মন জয় করতে পারে। বিস্তীর্ণ সৈকতের সৌন্দর্য অপার। বিরামহীন ঢেউ, পরিচ্ছন্ন বালুকাবেলা, সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের অপূর্ব রূপ দেবে শান্তি। স্নানবিলাসীদের স্বর্গরাজ্য গোপালপুর। এখান থেকে ঘুরে আসতে পারেন প্রায় ৪২ কিলোমিটার দূরে পতি সোনাপুরা নামে এক নির্জন সাগরবেলায়। বঙ্গোপসাগর ও রুশিকুল্যা নদীর মোহনাটিও চমৎকার। গোপালপুর থেকে দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটারের মতো। পথ ছত্রপুর হয়ে। ঘুরে দেখতে পারেন গোপালপুর বন্দর। সময় থাকলে তালিকায় জুড়ে নিতে পারেন গোয়ালবান্ধার ধবলেশ্বর মন্দির এবং সৈকতটি। গোপালপুর থেকে ৫ কিলোমিটার। সৈকতশহরে গোপুরম শোভিত দ্রাবিড়ীয় শৈলীর গোপালকৃষ্ণ মন্দিরও মন ভাল করে দেবে। আর পাখির চোখে গোপালপুরকে দেখতে হলে উঠে পড়ুন লাইটহাউসের মাথায়।
লাইটহাউস বা বাতিঘর থেকে পড়ন্ত বিকেলে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। ছবি: ইনস্টাগ্রাম (এআর শক্তি)।
একটি দিন গোপালপুর সংলগ্ন স্থানগুলি ঘুরে নিয়ে পরের দিনটি চলুন তপ্তপানি এবং জিরাং মনাস্ট্রি বা গুম্ফা দেখতে। প্রথমেই চলে যান জিরাং, দূরত্ব ১০১ কিলোমিটার। পূর্বঘাট পাহাড়ের গায়েই চন্দ্রগিরি। সেখানেই বৌদ্ধদের উপাসনাস্থল পদ্মসম্ভব মহাবিহার মনাস্ট্রি। ১৯৫৯ সালে চিন-অধিকৃত তিব্বত থেকে দলাই লামার সঙ্গে বহু তিব্বতি শরণার্থী ভারতে চলে আসেন। এঁদের অনেকেই চন্দ্রগিরিতে এসে বসবাস করতে শুরু করেন। সেই তিব্বতি কলোনি এখনও রয়েছে। সে কারণে ওড়িশার ‘মিনি তিব্বত’ নামে পরিচিত জায়গাটি।
জিরাং বৌদ্ধ মঠের পরিবেশ খুব সুন্দর। ছবি: শাটারস্টক।
পাহাড়ের মাঝে গুম্ফা, ভিতরে বুদ্ধমূর্তি। এমন দৃশ্য শুধু দার্জিলিং, সিকিম, লাদাখ, হিমাচলের বদলে ওড়িশাতেও মিলতে পারে, না দেখলে বিশ্বাস হবে না। গুম্ফার পাশেই সুসজ্জিত হ্রদ। প্রবেশদ্বারের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে মনে হবে ক্যানভাসে আঁকা ছবি। কাছেই রয়েছে ঘণ্টাঘর। সেখানে রয়েছে বৌদ্ধস্তূপ। দিনের শুরুতে বৌদ্ধ গুম্ফা দেখে ফেরার পথে চলুন তপ্তপানি। দূরত্ব ৩৪ কিলোমিটার। এখানেই রয়েছে উষ্ণ জলের কুণ্ড। তাই এই পাহাড়ি শহরের নাম তপ্তপানি। এখানেই পূজিতা হন দেবী কান্দিমাতা। জিরাং, তপ্তপানির পথে গাড়ি চালিয়ে আনন্দ পাবেন, যাঁরা গাড়ি চালাতে ভালবাসেন। মসৃণ রাস্তার দুই পাশে সবুজের শোভা। কোথা থেকে যেন আবার সবুজ পাহাড় এসে সেই রাস্তা জাপটে ধরেছে। সৌন্দর্য এমনই, এই পথে থমকাতে হবে বার বার।
তপ্তপানির উষ্ণপ্রস্রবণের কাছেই রয়েছে মন্দির। ছবি:সংগৃহীত।
তপ্তপানি থেকে গোপালপুরের পথে অনেকটা এসে বাঘাঝরি থেকে বাঁ দিকের রাস্তা ধরে গেলে পৌঁছে যাবেন ঋষিকুল্যা নদীর ধারে তারাতারিণী মন্দিরে। দূরত্ব পড়বে ৭৭ কিলোমিটার। পাহাড়চুড়োয় মন্দির। প্রায় এক হাজার সিঁড়ি উঠে গিয়েছে। তবে যাত্রাপথের কষ্ট লাঘবে রয়েছে রোপওয়ে। সে-ও এক সুন্দর ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা হবে। তপ্তপানি থেকে ফিরে আসুন গোপালপুরে, দূরত্ব ৩৬ কিলোমিটার। ভোরভোর সৈকতশহর থেকে বেরিয়ে তিনটে জায়গা দেখে সন্ধে নাগাদ ফিরে আসা যাবে গোপালপুরে।
তারাতারিনী মন্দির। ছবি:সংগৃহীত।
কোথায় থাকবেন?
গোপালপুরে অসংখ্য ছোট, বড় হোটেল রয়েছে। সমুদ্রের কাছেই সেগুলি। ওড়িশা পর্যটন দফতরের পান্থনিবাসও আছে। তপ্তপানিতেও সবুজে ঘেরা স্থানে সাজানোগোছানো বেসরকারি রিসর্ট রয়েছে। এখানেও রয়েছে পান্থনিবাস।
কী ভাবে যাবেন?
কলকাতা থেকে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে কটক, বালুগাঁও, গঞ্জাম হয়ে যেতে হবে। গোপালপুর থেকে জিরাং মনাস্ট্রি বা গুম্ফার দূরত্ব প্রায় ১০১ কিলোমিটার
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
- উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
- সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
-
শতবর্ষপ্রাচীন প্রতিমার পুজোর ভোগে ১০ রকমের খাবার! দেবাদৃতার ঘরোয়া লক্ষ্মীপুজো ঠিক কেমন হল
-
ঘরোয়া ভাবে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এ বার লক্ষ্মীপুজো শ্রীলেখার! দেবীর কাছে কোন বিশেষ প্রার্থনা করবেন তিনি?
-
‘মায়ের পছন্দ না হলে আমার হাত দিয়ে অন্য কিছু করান,’ অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় এ বার কী কী আয়োজন?
-
কেন জোড়া ইলিশ দেওয়া হয় লক্ষ্মীপুজোয়? তেল-মশলা ছাড়াই বানানো হয় ভোগপ্রসাদ, রন্ধনের নিয়মও আলাদা
-
লক্ষ্মীলাভে কেন পিছিয়ে বাংলা ছবি, কোন পথে আসবে সমৃদ্ধি? কী বলছেন প্রযোজক-পরিচালক-অভিনেতারা