রোজের ব্যস্ততায় টুকটাক ভুলে যাওয়া আকছার ঘটেই থাকে। বাইরে বেরোনোর সময়ে টাকার ব্যাগ ফেলে গেলেন, চশমা নিতে ভুলে গেলেন, বাজারের ফর্দ হারিয়ে ফেললেন অথবা অফিসে গিয়ে কোন কাজটি আগে করবেন, তা বেমালুম ভুলে গেলেন। সদ্য ঘটা ঘটনাও যদি স্মৃতি থেকে উধাও হতে শুরু করে, তা হলে বিষয়টি চিন্তার। চিকিৎসকেরা বলেন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগের কারণে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। স্নায়ুর সংযোগে বিপত্তি ঘটে। ফলে ভুলে যাওয়া, যখন-তখন মন খারাপ, একাকিত্বের অনুভূতি হওয়া এবং স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে থাকে। এর থেকে পরিত্রাণের উপায়ই হল ব্যায়াম করা। তবে মনঃসংযোগ বৃদ্ধি, স্মৃতিশক্তি চাঙ্গা করতে ও মস্তিষ্কের ধার বৃদ্ধি করতে নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়ামই করতে হবে।
ক্রস ক্রল মুভমেন্ট
সোজা হয়ে দাঁড়ান। এ বার আপনার ডান হাঁটু উঁচুতে তুলে বাঁ কনুই দিয়ে সেটি স্পর্শ করার চেষ্টা করুন। পা নামিয়ে বাঁ হাঁটু তুলে ডান কনুই দিয়ে তা স্পর্শ করার চেষ্টা করুন। পর্যায়ক্রমে পা বদলে দুই পায়েই ব্যায়ামটি করতে হবে ১ থেকে ২ মিনিট। এতে যেমন পেশির জোর বাড়বে, তেমনই মনোযোগ বাড়বে, মস্তিষ্কের বিকাশও হবে।
রিভার্স ওয়াকিং
ঘরের একটি নিরাপদ ও ফাঁকা জায়গায় পিছনের দিকে হাঁটুন। এটি করতে হবে সতর্কতার সঙ্গে। রোজ ৫ থেকে ১০ মিনিট উল্টো দিকে হাঁটার অভ্যাস করলে মস্তিষ্কেরও ব্যায়াম হবে।
আরও পড়ুন:
বৃক্ষাসন
সোজা হয়ে দাড়িয়ে নিজের দু’টি হাত নমস্কারের ভঙ্গিতে বুকের কাছে আনুন। তার পর শরীরের ভারসাম্য বজায় রেখে নিজের ডান হাঁটু ভাজ করে পায়ের পাতাটি বাম ঊরুর উপর আনুন। ধীরে ধীরে মেরুদণ্ড সোজা রেখে হাত নমস্কারের ভঙ্গিতে সমান ভবে মাথার উপর নিয়ে যান। ৩০ সেকেন্ড এই ভঙ্গিতে এক পায়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকুন।
বোর্ড ড্রয়িং উইথ বোথ হ্যান্ড
দু’টি হাত সামনে সোজা করে তুলুন (অথবা সামনে ব্ল্যাকবোর্ড বা কাগজ থাকলে দুই হাতে দুটি পেনসিল নিন)। এ বার একই সঙ্গে দুই হাত দিয়ে শূন্যে বা কাগজে কিছু লিখতে বা আঁকতে হবে। যেমন, বাঁ হাত দিয়ে একটি বৃত্ত আঁকলে, ডান হাত দিয়ে একটি চতুর্ভুজ আঁকার চেষ্টা করুন। কিছুক্ষণ পর উল্টোটা করুন। একই ভাবে কোনও শব্দ বা অক্ষরও লিখতে পারেন। প্রথম প্রথম সমস্যা হবে। তবে একাগ্রতা বাড়লে তখন সহজ লাগবে।
আর্ম সার্কল
সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ডান হাতটি সামনের দিকে ঘড়ির কাঁটার দিকে বড় গোল বৃত্তাকারে ঘোরাতে শুরু করুন। ঠিক একই সময়ে বাঁ হাতটি পিছনের দিকে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘোরাতে থাকুন। কয়েক সেকেন্ড পর ঘূর্ণনের দিক উল্টে দিন। এই ব্যায়ামটিও রোজ করলে উপকার হবে।