বর্ষার সময়ে কেবল ভাইরাল জ্বর বা সর্দি-কাশি নয়, আরও নানা রোগ মাথাচাড়া দেয় এই সময়ে। ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া বা চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের প্রকোপ তো বাড়েই, সেই সঙ্গে পেটের রোগ, হেপাটাইটিস, টাইফয়েডের মতো অসুখও ছড়ায়। বৃষ্টির দিনে জলবাহিত বিভিন্ন রোগ থেকেও সাবধান থাকতে হয়। ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়া জল বা খাবারের মাধ্যমেও শরীরে ঢুকে রোগ ছড়ায়। এই সময়ে ছোটদের অনেক বেশি সাবধানে রাখতে হয়। কী কী রোগ থেকে সতর্ক থাকতে হবে, বাবা-মায়েদের তা জেনে রাখা জরুরি।
বর্ষার সময়ে কী কী রোগ থেকে সতর্ক থাকতে হবে?
ইনফ্লুয়েঞ্জা
মরসুমি ফ্লু বলতে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের নামই প্রথমে মনে আসে। সর্দি-কাশির সাধারণ অ্যাডিনোভাইরাসের চেয়ে অনেক বেশি সংক্রামক ইনফ্লুয়েঞ্জা। ইদানীং ইনফ্লুয়েঞ্জার আরও দুই প্রতিরূপ ‘সাবক্ল্যাড কে’ এবং ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি’ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে বলেও সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি এক প্রকার আরএনএ ভাইরাস, করোনারই মতো। এই ভাইরাসও শ্বাসনালি দিয়ে মানুষের শরীরে ঢোকার ক্ষমতা রাখে। একই ভাবে শরীরের ভিতরে ছড়াতে পারে ও আক্রান্তের থেকে সুস্থ মানুষের শরীরেও ঢুকে পড়তে পারে। তাই সতর্ক থাকা জরুরি।
হেপাটাইটিস এ, ই
দূষিত জলবাহিত হয়ে ‘হেপাটাইটিস এ’ ও ‘হেপাটাইটিস ই’ ছড়ায় এই সময়ে। ভারী বৃষ্টির কারণে রাস্তায় জমা জল কোনও ভাবে পানীয় জলের লাইনে বা টিউবওয়েলের ভূগর্ভস্থ জলে মিশলে সেখান থেকে ভাইরাস ছড়াতে পারে। আবার রাস্তায় বিক্রি হওয়া কাটা ফল, লস্যি বা শরবত অথবা খোলা খাবার খেলে তা থেকেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। শিশুদের হেপাটাইটিস এ বা ই হলে লিভার মারাত্মক ভাবে আক্রান্ত হতে পারে। এর থেকে জন্ডিস, অপুষ্টিজনিত রোগের ভয়ও থাকে।
আরও পড়ুন:
টাইফয়েড
টাইফয়েডে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার জানিয়েছেন, সাধারণ জ্বরের চেয়ে টাইফয়েড অনেকটাই আলাদা এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে এর প্রভাব ভয়াবহও হতে পারে। টাইফয়েডের জন্য দায়ী সালমোনেল্লা টাইফি ব্যাক্টেরিয়া। জিনগত বদল ঘটিয়ে এটি এখন আরও বেশি সংক্রামক। দেশে ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সিরাই টাইফয়েডে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। ঘন ঘন জ্বর, সেই সঙ্গে তীব্র মাথা ব্যথা ও গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা, সারা শরীরে র্যাশ বেরিয়ে যাওয়া এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। একই সঙ্গে তীব্র ডায়েরিয়া ও পেশির খিঁচুনিও দেখা দেবে।
লেপ্টোস্পাইরোসিস
বর্ষার এই সময়ে জলবাহিত যে রোগগুলি মাথাচাড়া দেয়, তার মধ্যে একটি হল লেপ্টোস্পাইরোসিস। প্রতি বছর এই রোগের প্রকোপ বাড়ে দেশের নানা জায়গায়। সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুও হয়। রোগটি হয় ‘লেপ্টোস্পাইরা ইন্টেরোগ্যানস’ ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ থেকে। চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার জানাচ্ছেন, এই রোগ প্রধানত ইঁদুর, ছুঁচো বা বেজি ইত্যাদি প্রাণীর বর্জ্য থেকে ছড়ায়। সাধারণত এই সব প্রাণীরা মাটিতেই তাদের বর্জ্য ত্যাগ করে। বর্ষার সময় তা জলে মিশে যায়। ফলে জমে থাকা জল থেকেই রোগটি ছড়িয়ে পড়ে।
ভাইরাল জ্বর ও শ্বাসকষ্ট
সর্দিকাশির অ্যাডিনোভাইরাস, রাইনোভাইরাস কিন্তু করোনার চেয়েও বেশি ছোঁয়াচে হয়ে উঠেছে বলেই মত চিকিৎসকের। গুরুতর ভাবে অ্যাডিনোভাইরাসে আক্রান্ত হলে গলা ও ঘাড়ের চারদিকের গ্ল্যান্ড ফুলে যেতে পারে। সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হবে। রাইনোভাইরাস নাক দিয়ে ঢোকে। এর সংক্রমণ হলে গলা ব্যথা, ঢোক গিলতে না পারা, শুকনো কাশি ভোগাতে পারে।