ডেস্কে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ থেকে রেহাই নেই। বাড়িতে বসেও কোলে ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করেন অনেকেই। তার উপর সুগার-প্রেসারের সমস্যা আছেই। খাওয়াদাওয়ায় অনিয়মের কারণে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণও বেশি। এই সবকিছুই প্রভাব ফেলে প্রজনন ক্ষমতার উপরে। অথচ সুগার-প্রেসার বা কোলেস্টেরলের ওষুধ খেয়েই সকলে ভেবে নেন যে সুস্থ আছেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, বয়স ত্রিশ পার হওয়া পুরুষেরও শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমছে জীবনযাত্রার কারণেই। আর সে নিয়ে সচেতনতাও কম। ফলে ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার সময়ে গিয়ে সমস্যা বেশি হচ্ছে। তাই আগে থেকে সতর্ক হওয়া জরুরি। টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা একটা বয়সের পরে গিয়ে করিয়ে নেওয়া ভাল বলেই মনে করছেন চিকিৎসকেরা।
টেস্টোস্টেরন মূলত পুরুষ হরমোন। তবে মহিলাদের শরীরেরও স্বল্পমাত্রায় থাকে। এই হরমোন পুরুষদের প্রজনন অঙ্গের বিকাশ, পেশি ও হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখা, শুক্রাণু তৈরি এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এর তারতম্য হলে শরীর যেমন দুর্বল হয়, তেমনি প্রভাব পড়ে প্রজনন স্বাস্থ্যেও।
আরও পড়ুন:
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বলছে, পুরুষদের দীর্ঘক্ষণ ডেস্কে বসে কাজ করা এবং কম শারীরিক কার্যকলাপের কারণে হরমোনের তারতম্য হচ্ছে, ফলে শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমে যাচ্ছে। আবার যিনি বাড়িতে বসে কাজ করছেন এবং কোলে ল্যাপটপ নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে আছেন, তাঁর ক্ষেত্রে বিপদ আরও বেশি। ল্যাপটপ থেকে বেরোনো তাপ শুক্রাশয়ের তাপমাত্রার হেরফের যেমন ঘটাবে, তেমনই তার ফলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে যাবে। এতে শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণমান কমবে। সেই সঙ্গে খাওয়াদাওয়ায় অনিয়ম তো আছেই।
কাদের জন্য জরুরি টেস্টোস্টেরনের পরীক্ষা?
যাঁদের কায়িক পরিশ্রম কম হয়, দীর্ঘ সময় ধরে বসে কাজ করতে হয়, তাঁরা করিয়ে নিতে পারেন।
ডায়াবিটিস রয়েছে, রক্তে শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত, তাঁদের জন্য জরুরি।
কমবয়সেই স্থূলত্ব, ওজন কমছে না, রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, তাঁরা করিয়ে নিতে পারেন।
ক্যানসারের চিকিৎসা হয়েছে, পূর্বে কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন থেরাপি নেওয়ার ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের জন্য জরুরি এই পরীক্ষা।
রক্তল্পতা রয়েছে, হাড় দুর্বল, পেশির শক্তি কমছে, তাঁরা পরীক্ষাটি করিয়ে নিতে পারেন।
হার্টের রোগ রয়েছে ও সে কারণে ওষুধ খেতে হয়, ঘন ঘন ব্যথানাশক ওষুধ খান যাঁরা বা মানসিক রোগের ওষুধ খান, তাঁরা পরীক্ষাটি সময় থাকতেই করিয়ে নিতে পারেন।
খরচ কত?
বয়স ৩০ পার হওয়ার পর টেস্টোস্টেরন টেস্ট করিয়ে রাখা ভাল। ক্রনিক কোনও অসুখ থাকলেও পরীক্ষাটি কমবয়সেই করাতে হবে। পরীক্ষাটির আনুমানিক খরচ ৮০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে। কী কী টেস্ট করাবেন তার উপর খরচ নির্ভর করবে। তবে টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই করাতে হবে।